চার বছরের চুক্তির সম্ভাবনা এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণার প্রস্তুতি থাকলেও নাটকীয় মোড় নিল ইতালি জাতীয় দলের কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়া। ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার আন্দ্রে পিরলোর নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বর্তমানে স্থগিত করা হয়েছে। এই পরিস্থিতির জেরে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পাওলো মালদিনি এবং তার উপদেষ্টা লিওনার্দোও পদত্যাগ করতে পারেন বলে জানা গেছে।

স্কাই স্পোর্ট ইতালির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার রোমে পিরলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের একটি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। সেখানে দুবাইয়ের ইউনাইটেড এফসির সঙ্গে তাঁর বর্তমান চুক্তি বাতিল করে ইতালির সঙ্গে নতুন চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা ছিল। তবে নির্ধারিত বৈঠকসহ পুরো প্রক্রিয়াটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সভাপতি জিওভান্নি মালাগো শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করলে পিরলোর কোচ হওয়া অনিশ্চিত।

পিরলোর নিয়োগের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে রাশিয়ার বেটিং প্রতিষ্ঠান 'ফনবেট'-এর সঙ্গে তাঁর বাণিজ্যিক সম্পর্ক। এই প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক শুভেচ্ছাদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক এই মিডফিল্ডার। গত মে মাসে মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে ফনবেট আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযানের backdrop-এ এই বাণিজ্যিক সম্পর্কের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন ইতালির বেশ কয়েকজন রাজনীতিক। তাঁদের দাবি, জাতীয় দলের কোচের মতো সংবেদনশীল পদে এমন কাউকে নিয়োগ দেওয়া সমীচীন নয়, যার সঙ্গে রুশ প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। রাজনৈতিক চাপের মুখে এফআইজিসি সভাপতি মালাগো পিরলোর নিয়োগের অনুমোদন দেননি।

এই বিতর্কের মুখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে নীরবতা ভেঙেছেন পিরলো। তিনি দাবি করেছেন, ফনবেটের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটি সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক ও ক্রীড়াবিষয়ক, এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক অবস্থানের সম্পর্ক নেই।

পিরলো লিখেছেন, ‘এই পেশাগত সম্পর্ক সংযুক্ত আরব আমিরাতে আমার কাজের ধারাবাহিকতায় তৈরি হয়েছে এবং এটি কেবল বাণিজ্যিক ও ক্রীড়াবিষয়ক। এতে রাজনৈতিক অর্থ খোঁজা মানে এমন কিছু বিশ্বাস আমার ওপর চাপিয়ে দেওয়া, যা আমি কখনো প্রকাশ করিনি এবং যা আমার নয়।’

বিবৃতির শেষে তাঁর ওপর আস্থা রাখার জন্য মালদিনি ও লিওনার্দোকে ধন্যবাদ জানিয়ে পিরলো বলেন, ‘ইতালির প্রতি ভালোবাসা কোনো দায়িত্ব পাওয়ার ওপর নির্ভর করে না। এটি আমার ইতিহাস ও পরিচয়ের অংশ এবং সব সময় আমার সঙ্গে থাকবে।’

পিরলোর নিয়োগ আটকে যাওয়ায় এখন প্রশ্ন উঠেছে মালদিনি ও লিওনার্দোর ভবিষ্যৎ নিয়ে। টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে কোচ নির্বাচনের পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে দায়িত্ব নিয়েছিলেন মালদিনি। পেপ গার্দিওলার প্রস্তাব নাকচ করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পিরলোকেই বেছে নিয়েছিলেন তিনি ও লিওনার্দো।

স্কাই স্পোর্ট ইতালির তথ্যমতে, তাঁদের পরিকল্পনার বাইরে অন্য কাউকে কোচ করা হলে মালদিনি ও লিওনার্দো দুজনই দায়িত্ব ছাড়তে পারেন। মঙ্গলবার এফআইজিসির ফেডারেল কাউন্সিল সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন কোচের নাম চূড়ান্ত করার কথা থাকলেও, পিরলোর নিয়োগ ভেস্তে যাওয়ায় সেই সভায়ই এখন মালদিনি ও লিওনার্দোর ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হতে পারে।