আশুলিয়ায় চলন্ত বাসে এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগে বাসটির চালক, সহকারী এবং চালকের এক বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বাসের হেলপার মো. মুশফিকুর রহমান জনি, চালক মো. ইমরান এবং চালকের বন্ধু মো. সুমন প্রামানিক।
আশুলিয়া থানা-পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার (২৫ জুলাই) রাত দেড়টার দিকে ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিচিত মো. রুবেল গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে সাভার পরিবহনের একটি বাসে সাভারের নবীনগরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। নবীনগর পৌঁছানোর আগে বাসের অন্যান্য যাত্রীরা বিভিন্ন স্ট্যান্ডে নেমে যান।
নবীনগর বাসস্ট্যান্ডের কাছাকাছি পৌঁছালে চালক ইমরান তার সহকারী জনিকে বাস চালানোর দায়িত্ব দেন। এরপর ইমরান ভুক্তভোগীর সঙ্গে থাকা রুবেলকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক বাস থেকে নামিয়ে দেন এবং নিজেও নেমে যান। সেই সময় বাসে ভুক্তভোগী নারী, হেলপার জনি ও সুমন প্রামানিক অবস্থান করছিলেন।
পুলিশ জানায়, রুবেলকে নামিয়ে দেওয়ার পর সুমনের সহায়তায় জনি চলন্ত বাসে ওই নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এদিকে বাস থেকে নামার পরপরই রুবেল জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল করে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা-পুলিশের একটি দল দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং আশুলিয়ার বাড়ইপাড়া বাসস্ট্যান্ডে অন্য একটি বাস দিয়ে সড়কে ব্যারিকেড তৈরি করে সাভার পরিবহনের বাসটি থামায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে এবং জনি ও সুমনকে বাসসহ আটক করে।
ভুক্তভোগী নারীর করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় রোববার বিকেলে আশুলিয়ার বাড়ইপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার অপর আসামি চালক ইমরানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, “জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করে। রাতেই ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মামলা করলে আটক ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে অভিযান চালিয়ে বাসচালক ইমরানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”