মোহাম্মদপুর-আদাবরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান তীব্র গ্যাস সংকট দ্রুত নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (বিকেএম) আমির মাওলানা মামুনুল হক। দীর্ঘদিনের এই সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
সোমবার (২৭ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, "দেশের বিভিন্ন এলাকায় কোথাও গ্যাস সম্পূর্ণ বন্ধ, আবার কোথাও গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে, স্বাভাবিকভাবে রান্নাবান্না করাও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে হাজারো পরিবার সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। গ্যাসের অভাবে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য খাবার প্রস্তুত করা, এমনকি বিশুদ্ধ পানি ফুটিয়ে পান করার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজও ব্যাহত হচ্ছে।"
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, এই সমস্যাটি কেবল সেবাগত ত্রুটি নয়, বরং এটি জনস্বাস্থ্য ও নাগরিক জীবনের ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, "মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস উৎপাদন হ্রাস, সরবরাহ ঘাটতি, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং পর্যাপ্ত বিকল্প ব্যবস্থার অভাব বর্তমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।"
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত পরিস্থিতির কোনো দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার দাবি, মোহাম্মদপুর ও আদাবরসহ বিভিন্ন এলাকায় সংকট আরও প্রকট হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে এবং সরকারি আশ্বাসের কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "গ্যাস সংকটের প্রকৃত কারণ, বর্তমান পরিস্থিতি এবং সমাধানের অগ্রগতি সম্পর্কে জনগণকে নিয়মিত, স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীলভাবে অবহিত করতে হবে। জনগণের জানার অধিকার রয়েছে—কেন এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে, কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং এ সময়ে সরকার কী কী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।"
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, "ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট এড়াতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্যাস অবকাঠামোর আধুনিকায়ন, বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাস্তবসম্মত ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করা সময়ের দাবি।"
সরকার জনগণের এই দুর্ভোগ সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে সরকার যেন গ্যাস সংকটের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশবাসীর দুর্ভোগের অবসান ঘটায়, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।