চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্পের পানির ট্যাংক থেকে পানি পান করে তিন সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় ৪৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ সোমবার সকালে পুলিশ বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় এই মামলাটি করে।
মামলায় ৩৪ জনের নাম নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বাকিরা অজ্ঞাতনামা। সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মামলায় জঙ্গল সলিমপুরের সন্ত্রাসী দল ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান ইয়াসিনকেও আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।’
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার সকাল সাতটার দিকে ক্যাম্পের ট্যাংকের পানি পান করার পর পুলিশ কনস্টেবল মাঈন উদ্দিন ভূঁইয়া, ইয়াসির আরাফাত ও সাজ্জাদ হোসেন অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থ হয়ে পড়ার আগে গ্লাসে পানি ঢালার সময় তাঁরা সাদা ফেনা দেখতে পান। বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে পানি পান করার পর এক ধরনের গন্ধ অনুভব করেন তাঁরা এবং এর কিছুক্ষণ পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। বর্তমানে তাঁরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে ওসি মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, ‘একটি চক্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ক্যাম্পের পানির ট্যাংকে পাইপলাইনের মাধ্যমে বিষাক্ত কিছু দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্যাম্পের পানি পাশের একটি বাড়ি থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে আনা হয়।’
অসুস্থ পুলিশ সদস্যরা বর্তমানে শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন ওসি। তিনি আরও জানান, ‘ট্যাংকের পানির নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি পানি ফেলে দিয়ে ট্যাংকটি পরিষ্কার করা হয়েছে।’
চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সংযোগ সড়ক ধরে এগোলে পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুর চোখে পড়ে। মূলত ছিন্নমূল ও আলীনগর—এই দুটি অংশ নিয়ে গড়ে উঠেছে এই এলাকা। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, এখানে প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর খাসজমি রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে ভূমিদস্যুদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্যের এক যৌথ অভিযানে জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়। এর আগে বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়েও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নিতে ব্যর্থ হয়েছিল এবং অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হতে হয়েছিল।