স্পেনের কাছে ফাইনালে পরাজয়ের পর এক আর্জেন্টিনা সমর্থকের সাথে কথা বলা হলে তিনি শুরুতেই গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। সাক্ষাৎকারের প্রারম্ভে তিনি তিনবার দাবি করেন, ‘সব দোষ ফিফার।’
নিজের বর্তমান অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে ওই সমর্থক বলেন, “কী আর বলব, আগেই ভালো ছিলাম। এখন আমার বউ-ছেলে মিলে সারা দিন হাসাহাসি করে আমাকে নিয়ে। এই বয়সে এসে এসব কি আর সহ্য করা যায়, আপনিই বলেন!”
আর্জেন্টিনার পরাজয়ের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ওদের কোনো দোষ নাই, সব দোষ ফিফার। আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম। রেফারি তো বেইমানের বেইমান। খেলায় ধাক্কাধাক্কি তো একটু হবেই, তাই বলে লাল কার্ড দেবে? এটা কোনো কথা? আর টাকা কি কম খাইছে ওরা? মানুষের ওপর থেকে বিশ্বাসই উঠে যাচ্ছে।”
ফিফাকে টাকা দিয়ে আর্জেন্টিনা ফাইনালে এসেছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে বলেন, “ইয়ে মানে না না, তা আমি কখন বললাম! মেসি ভাই হইলো মানবদরদি, সবাইরে টাকাপয়সা দিয়ে সাহায্য করছেন। টাকাপয়সার তো তাঁর অভাব নাই, বুঝছেন না। আপনারে যদি আমি পাঁচ টাকা দিয়া সাহায্য করি, তাহলে আমার সময়-অসময় একটু খেয়াল রাখবেন না?”
স্পেনের একটি গোল বাতিল হওয়া প্রসঙ্গে তার মত, “ওইটা তো এক শ পার্সেন্ট ফাউল! শুক্কুরে শুক্কুরে আট দিন ফুটবল খেলা শিখছে, এত সহজ নাকি গোল দেওয়া, তা–ও আর্জেন্টিনার বাঘা বাঘা প্লেয়ারের সামনে। গোলপোস্টে বল ঢুকলেই গোল হয় নাকি? বিশাল ফাউল করছে।”
১২০ মিনিটে আর্জেন্টিনার শট না নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি যুক্তি দেন, “দেখেন, স্পেনের প্লেয়াররা পোলাপান মানুষ, ওদের একটু খেলতে দিছে। আর আর্জেন্টিনার বারবার শট নেওয়া লাগে নাকি গোল দেওয়ার জন্য? এক শটেই গোল! পরে ইয়ামালকে মায়া করে গোল দেয় নাই আরকি। যতই হোক, মেসিই তো ওরে হাতে ধইরা বড় করছে। বড় বড় মাইনষের মনও বড় হয়। আমি-আপনি কি আর এসব বুঝব!”
ব্রাজিল সমর্থকদের বিষয়ে তিনি বলেন, “ওদের নিয়ে আর কী বলব! বাপ-দাদার আমলে পাঁচটা কাপ জিতছে—এই নিয়ে তো গর্বে মাটিতে পা পড়ে না। নকআউটেই আউট হয়ে যায়। ওরাও একটা টিম আর তেলাপোকাও একটা পাখি। আরে ভাই, জিতছে স্পেন, তোরা না। তোদের এত কিসের নাচন–কোদন!”
অন্যদিকে, এক ব্রাজিল সমর্থকের সাথে কথা বলে জানা যায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি বলেন, “খুব ভালো আছি। এত ভালো তো ব্রাজিল জিতলেও থাকতাম না। খুশিতে নাচতে ইচ্ছা করছে।”
আর্জেন্টিনার হারের কারণ হিসেবে তিনি মন্তব্য করেন, “চোরের দশ দিন আর গেরস্তের এক দিন। চুরি করে ফাইনাল পর্যন্ত আসছে, তাই বলে কাপ জিতবে নাকি। যে তিনটা আছে, ওই নিয়েই খুশি থাক।”
ফিফার ভূমিকা নিয়ে তিনি দাবি করেন, “যেকোনো সুস্থ মানুষই এটা মনে করে। নয়তো সব ম্যাচ ছোট দলের সঙ্গে ক্যামনে পড়ে বলেন তো! পরে এসে কিস্তির টাকা মিস গেসে। টাকাপয়সা দেয় নাই বলেই তো দেখলেন না স্পেন জিতল, আমরা একটা সুষ্ঠু খেলা দেখতে পাইলাম। এখন আর নিজের দল হারছে, তার জন্য আক্ষেপ নাই।”
স্পেনের বাতিল হওয়া গোলটি নিয়ে তার অভিমত, “এগুলা তো ভণ্ডামি। রেফারিরে তো ভয় দেখায়ে ওইটা বাতিল করছে। সব খবরই কানে আসে, বুঝছেন। ওরা কী ভাবছে, আমরা কিছু বুঝি না?”
আর্জেন্টিনার শটহীন ১২০ মিনিট নিয়ে তিনি বলেন, “হাসিও পায় এগুলা দেখলে। তবে হ্যাঁ, এ কারণে সবচেয়ে ভালো সময় কাটাইছে স্পেনের গোলকিপার। সেকেন্ড হাফের শুরুতে তো ঘুমায়ই গেছিল, পরে হাইড্রেশন ব্রেকে উঠে জুসটুস খাইছে। এটা মনে হয় তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে শান্তির দিন।”
আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “ওদের নিয়ে কিছু বলতে চাই না। কিন্তু ওদের একটু চোখে চোখে রাইখেন, গভীর শোক কাটায়ে উঠতে সময় লাগবে। সাহস দিয়ে ওদের পাশে থাইকেন আপনারা। তবে লজ্জাশরম থাকলে আর লাগতে আসবে না।”