আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা বিশেষ করছাড় পাবেন। এক লাখ টাকা আয়কর হলে ৯৫ হাজার টাকা কর দিলেই চলবে। পূর্ববর্তী রিটার্নের ভিত্তিতে প্রদত্ত করের ওপর ৫ শতাংশ বা পাঁচ হাজার টাকা করছাড় পাওয়া যাবে। যদি করের পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা হয়, তাহলে আড়াই হাজার টাকা প্রণোদনা হিসেবে মওকুফ করবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সেপ্টেম্বরের আগে রিটার্ন জমা দিলে করের ওপর ৫ শতাংশ ছাড় পাওয়া যাবে।

এ বছর থেকে এনবিআর নতুন এই নিয়ম কার্যকর করেছে, যেখানে আগে রিটার্ন দিলে বেশি ছাড় এবং দেরিতে দিলে জরিমানা হবে। বর্তমানে দেশে সোয়া এক কোটি কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) রয়েছে। গতবার ৪৫ লাখের বেশি টিআইএনধারী অনলাইনে রিটার্ন জমা দিয়েছেন।

ছাড় ও জরিমানা
এখন সারা বছর রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। তবে আগে দিলে বেশি করছাড় পাওয়া যাবে। অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা ২৫ হাজার টাকা, যা কম তা–ই ছাড় পাওয়া যাবে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর–ডিসেম্বর) রিটার্ন জমা দিলে করের পরিমাণ অনুযায়ী ছাড় পাওয়া যাবে না।

জানুয়ারি–মার্চ প্রান্তিকে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ বা তিন হাজার টাকা, যা বেশি সেই পরিমাণ টাকা দিতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনার করের পরিমাণ এক লাখ টাকা হয়, তাহলে আপনাকে এক লাখ দুই হাজার টাকা দিতে হবে। দেরিতে রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য দুই হাজার টাকা জরিমানা হবে, তবে এই জরিমানার পরিমাণ তিন হাজার টাকার বেশি হবে না।

এপ্রিল–জুনে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা পাঁচ হাজার টাকা, যা বেশি সেই পরিমাণ টাকা দিতে হবে। এই সময়ে রিটার্ন জমা দিলে আপনার আয়ের ওপর কর এক লাখ টাকা হলে আপনাকে এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা দিতে হবে। এনবিআর পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করবে, তবে এই জরিমানার পরিমাণ পাঁচ হাজার টাকার বেশি হবে না।

অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া
প্রথমে ওয়েবসাইটে যেতে হবে। রিটার্ন জমা দেওয়ার দিন লগইন করে ধাপে ধাপে বার্ষিক আয়, বিনিয়োগ, ব্যয়, সম্পদ, দায় ইত্যাদি তথ্য পূরণ করে রিটার্ন জমা দিতে হবে।

ই–রিটার্ন সিস্টেমে করদাতারা ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদ অথবা অন্য কোনো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে ঘরে বসেই কর পরিশোধ করতে পারবেন। সঠিক তথ্য প্রদান করে নির্ভুলভাবে রিটার্ন প্রস্তুতের পর তাৎক্ষণিক প্রাপ্তি স্বীকারপত্র ও আয়কর সনদ সংগ্রহ করা যাবে।