আদালতে নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথা তুলে ধরে আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য পর্যাপ্ত সময় চেয়েছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক। রোববার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হলে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি এই দাবি জানান।

পলক আদালতকে বলেন, ‘আমার ঘাড়ে আঘাতের কারণে চিকিৎসক নির্দেশনা দিয়েছেন হেলমেট না পরানোর। আমি অসুস্থ। আমার বিরুদ্ধে ৯৮টি মামলা, আমি ৯৯ দিন রিমান্ডে ছিলাম। আমার বিরুদ্ধে তিনটা মামলার বিচার চলছে। আইসিটিতে আমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য চলছে। আমার আইনজীবীর সাথে সাক্ষাৎকারের বিশেষ সময় প্রয়োজন।’

জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ট্রাকচালক মো. হোসেন হত্যার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পলকসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ছিল রোববার। সকালে কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে পলককে আদালতে আনা হয়। শুনানির সময় আদালত কথা বলার অনুমতি দিলে তিনি তাঁর সমস্যার কথা জানান এবং বলেন, ‘১৫ দিনে মাত্র আধা ঘণ্টা পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাই। আইনজীবীদের সঙ্গে দুই সপ্তাহে দুই দিন অন্তত তিন ঘণ্টা করে বিশেষভাবে কথা বলার অনুমতি প্রার্থনা করছি।’

পলকের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিনও আদালতের কাছে একই আবেদন জানান। শুনানি শেষে ঢাকার বিশেষ জজ ৪-এর বিচারক রবিউল আলম কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এই বিষয়ে ফারজানা ইয়াসমিন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই নিয়ম হচ্ছে ১৫ দিন পরপর পরিবার বা আইনজীবীদের সাথে সাক্ষাৎ করার সুযোগ থাকে। এখন পরিবার দেখা করতে গেলে আমরা দেখা করতে পারি না। তাঁর বিরুদ্ধে বেশির ভাগ মামলাই চার্জ শুনানি পর্যায়ে আছে। মামলাগুলো নিয়ে আমাদের পরামর্শ করা প্রয়োজন।’

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরে মালবাহী ট্রাকচালক মো. হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান এবং সাজ্জাদ ও শাহিন নামের দুই ব্যক্তি আহত হন। এই ঘটনায় ৩১ আগস্ট হোসেনের মা মোসা. রীনা বেগম শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ২৩ নভেম্বর মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আকরামুজ্জামান ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার ৩৪ আসামির মধ্যে রোববার কারাগারে থাকা চারজন এবং জামিনে থাকা আটজন উপস্থিত ছিলেন; বাকিরা পলাতক। বর্তমানে জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক ছাড়াও সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, সাদেক খান ও ফুরকান হোসেন কারাগারে রয়েছেন।

সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে পুলিশি নিরাপত্তায় পলককে হাজির করে হাজতখানায় রাখা হয়। বেলা ১১টা ২০ মিনিটে যখন তাঁকে আদালতে নেওয়া হচ্ছিল, তখন সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় তিনি বারবার হাত উঁচু করে ‘ভি চিহ্ন’ দেখাতে থাকেন। এই বিষয়ে ফারজানা ইয়াসমিন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে আমরা ভি চিহ্ন বলতে ভিক্টরি বা বিজয় বুঝি। কিন্তু উনি কী বোঝাতে চাইছেন, সে বিষয়ে আমার কথা বলার সুযোগ হয়নি আজ। তাই এ বিষয়ে অবগতও নই। তবে আমি মনে করি, তাঁর ভক্ত সমর্থকেরা যখন তাঁর (পলক) সাথে দেখা করতে এসেছে, তাদের উৎসাহ দিতেই এই চিহ্ন ব্যবহার করেছেন।’

তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, তিনি (পলক) প্রায়ই সময়ই আদালতে বিভিন্ন ধরনের অঙ্গভঙ্গি করেন। এটা তাঁর চিরাচরিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এভাবে তিনি পাবলিক সেন্টিমেন্ট তৈরি করার চেষ্টা করেন। আসামিদের এ ধরনের চিহ্ন দেখানো, শাউট (চিৎকার) করা, কথা বলা শোভনীয় নয়।

বেলা ১২টা ৭ মিনিটে পলককে পুনরায় হাজতখানায় রাখা হয় এবং ১২টা ৫০ মিনিটে প্রিজন ভ্যানে ওঠানো হয়। এদিন আদালতে পলককে দেখতে আসা শতাধিক সমর্থকের মধ্যে থেকে মোস্তাকিম হোসেন, নূর আলম, আনোয়ার হোসেন ও রুহুল আমিন নামে চারজনকে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ আটক করে। ডিএমপি কোতোয়ালি জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. নাজিম উদ্দীন আল আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।