রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের চার নেতা সংগঠনের সদস্যসচিবের বিরুদ্ধে অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ এনে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল শনিবার রাত আটটার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজেদের আইডিতে পোস্ট দিয়ে তাঁরা এই সিদ্ধান্ত জানান।

পদত্যাগী এই চার নেতা হলেন শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইউনুস, মো. সোলেমান বাদশা, নকিবুল আবছার এবং সদস্য মিনহাজ উদ্দিন। তাঁদের অভিযোগ, শাখা সদস্যসচিব জিসান আহম্মেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তার কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা নিয়েছেন। তবে জিসান আহম্মেদ এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে যুগ্ম আহ্বায়ক নকিবুল আবছার বলেন, ‘সদস্যসচিব বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তার সঙ্গে অনৈতিক লেনদেন করেছেন। এটি আমি নৈতিকভাবে মেনে নিতে পারিনি। এ ছাড়া কোনো নোটিশ ছাড়াই বারবার দলীয় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে আমাকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলকে জানানো হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। এ কারণে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

অন্যদিকে, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইউনুস মুক্তকণ্ঠকে জানান, ‘পদত্যাগের সিদ্ধান্ত আমরা আপাতত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছি। এখনো অফিশিয়ালি পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া হয়নি। দু–এক দিনের মধ্যে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার করা হবে।’

এই বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন মুক্তকণ্ঠকে জানান, কমিটির তিন যুগ্ম আহ্বায়ক ও এক সদস্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পদত্যাগের কথা জানিয়েছেন, তবে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১ মে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন ৪১ সদস্যবিশিষ্ট রাবিপ্রবি শাখা কমিটির অনুমোদন দিয়েছিলেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে সদস্যসচিব জিসান আহম্মেদ বলেন, ‘পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া এই চার নেতা দলে নিষ্ক্রিয়। তাঁরা কর্মসূচিতে অংশ নেন না। এ ছাড়া দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁরা অসহযোগিতা করেন। এ কারণে ইতিমধ্যে তাঁদের দুজনকে গত মঙ্গলবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁরা নোটিশের জবাব দেননি। জবাব না দিয়ে আমার বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার করছেন। এ বিষয়ে কেন্দ্রে জানানো হয়েছে।’