সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে শ্যামনগরে তীব্র আন্দোলন গড়ে উঠেছে। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে টানা পঞ্চম দিনের মতো আজ রোববার শ্যামনগরে বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ এবং কুশপুত্তলিকা দাহ কর্মসূচি পালন করা হয়।

বেলা ১১টার দিকে শ্যামনগর উপজেলার সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে বাবলাতলা মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাব চত্বরে গিয়ে শেষ হয় এবং সেখানে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সমাবেশে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।

ঠিকাদার মো. শামসুদ্দোহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই প্রতিবাদ সমাবেশে রবিউল ইসলাম, আবদুস সালাম, মফিজুল ইসলাম এবং মো. রাসেলসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে মফিজুল ইসলাম বলেন, “সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের নৈতিক প্রত্যাশা ও সংসদ সদস্যের পদমর্যাদার কথা বিবেচনায় নিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের পদত্যাগ করা উচিত।” একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, শ্যামনগরের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং জনমতের প্রতি সম্মান জানিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, গাজী নজরুল ইসলামকে ইতিমধ্যে শ্যামনগরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি দ্রুত সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ না করলে আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে। প্রয়োজনে শ্যামনগর অচল কর্মসূচির পাশাপাশি জেলার সব উপজেলায় একযোগে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

উল্লেখ্য, গত সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। তবে পরদিন গাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ফেসবুক পেজে এক পোস্টে জানান, ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী এলাকায় বিতর্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ এক জরুরি সভায় তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর থেকে তাঁকে আর প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না।