পটুয়াখালীতে হাঁসকে কামড়ানোর অভিযোগে দুটি পোষা কুকুরকে রশি দিয়ে বেঁধে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ রোববার সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বাদী হয়ে পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলাটি করেন। বিচারক মো. আবু বকর অভিযোগটি আমলে নিয়ে দুই আসামির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী সিকদার মোহাম্মদ আল ইমরান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালত সদর থানার পুলিশকে আসামিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে স্বপ্রণোদিত হয়ে অন্য কোনো সংস্থাও তাদের গ্রেপ্তার করতে পারে অথবা আসামিরা স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হতে পারেন।

মামলায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে মনজু হাওলাদার (৫০) এবং তাঁর চাচাতো ভাই জহির হাওলাদারকে (৩৫) আসামি করা হয়েছে। সাক্ষী হিসেবে স্থানীয় চায়ের দোকানি ও কুকুর দুটির মালিক জাহাঙ্গীর প্যাদাসহ আরও একজনকে রাখা হয়েছে। জাহাঙ্গীর প্যাদার এবং আসামিরা পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাদুরা গ্রামের খেজুরতলা এলাকার বাসিন্দা।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার বাদুরা বাজারসংলগ্ন খেজুরতলা এলাকায় জাহাঙ্গীর প্যাদার দুটি পালিত কুকুরকে রশি দিয়ে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মনজু হাওলাদারের ছয়টি হাঁসকে কিছু বেওয়ারিশ কুকুর আক্রমণ করলে তিনি জাহাঙ্গীরের পোষা কুকুর দুটিকে দায়ী করেন এবং তিন হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। জাহাঙ্গীর এই দাবি প্রত্যাখ্যান করলে তাঁর সামনেই কুকুর দুটিকে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি ওঠে।

মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, ২৩ জুলাই বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে দুটি কুকুরের গলায় রশি বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বাদী প্রথমে সদর থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ তাঁকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। এই ঘটনায় প্রাণিকল্যাণ আইন, ২০১৯-এর ৭(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪২৮ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, তিনি মামলার বিষয়টি শুনেছেন তবে আদালতের আদেশের কপি এখনো হাতে পাননি। তিনি বলেন, "বিষয়টি মর্মান্তিক। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"