চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় গণপিটুনিতে মোহাম্মদ নুর ইসলাম (৪৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে উত্তেজিত স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের ভাটেরখিল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মোহাম্মদ নুর ইসলাম এলাকায় মাদক ব্যবসা ও সেবনের সাথে জড়িত ছিলেন। গত সোমবার মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় নাঈম উদ্দিন (১৬) নামের এক কিশোরকে তিনি পিটিয়ে আহত করেন। গুরুতর আহত নাঈমকে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার ওই কিশোরের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় নাঈমের পরিবারের করা হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন নুর ইসলাম।
মুরাদপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. এজহারুল ইসলাম জানান, গতকাল সন্ধ্যায় কিশোর নাঈমের জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজা শেষে নাঈমের বাবা থানায় মামলা করতে গেলে নুর ইসলাম ও তাঁর সহযোগীরা এলাকায় বাজি ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে নুর ইসলাম আত্মগোপন করেন। তবে রাত দেড়টার দিকে স্থানীয় লোকজন তাঁকে দেখতে পেয়ে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। একই সময়ে অন্য একদল বাসিন্দা তাঁর বাড়িতে আগুন দেয়।
ইউপি সদস্য মো. এজহারুল ইসলাম আরও বলেন, "নুর ইসলাম এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল।"
ঘটনা প্রসঙ্গে সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "নুর ইসলাম চিহ্নিত সন্ত্রাসী ছিলেন। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলাসহ বেশ কটি মাদক মামলা রয়েছে। শনিবার রাতে স্থানীয় লোকজনের গণপিটুনিতে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে বাড়িতে আগুন দেওয়ার বিষয়ে শুনেননি।"