ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহকে ‘চোখ উপড়ে ফেলার’ হুমকি দিয়েছেন বিএনপির এক কর্মী। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহর পক্ষে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে শুক্রবার রাতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ওই ব্যক্তি সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ্যে করে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি তার ‘চোখ উপড়ে ফেলার’ হুমকি দেন।
হুমকি দেওয়া ব্যক্তির নাম মো. সোহরাব হোসেন। তিনি তারাকান্দা থানার রামপুর ইউনিয়নের আটাদার গ্রামের প্রয়াত জব্বার আলীর ছেলে এবং স্থানীয় বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে পরিচিত।
ভিডিওতে বিএনপি নেতা মোতাহার হোসেন তালুকদারের নামও উল্লেখ করেন সোহরাব হোসেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহ, বিএনপির প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদারকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে সরকার মোতাহার হোসেনকে ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেয়। তিনি ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক।
ভিডিওতে বিএনপি কর্মী সোহরাব হোসেনকে বলতে শোনা যায়, আন্দোলন করো এমপি সাব? ওই যে ওয়াহাবি এমপি সাব, রাজাকারের বাচ্চা। আজকে কইতাছে তারে বুলে পিটাইছে মোতাহার তালুকদারের লোকে। এই...মোতাহার তালুকদারের লোকে পিটাইলে তুই এলাকায় থাকতারবি? এলাকায় আন্দোলন করো? রাস্তায় না, আন্দোলন...দেয়াম। দেশটা ভালোভাবে চলতাছে, তোর সহ্য হয় না রাজাকারের বাচ্চা? এই সরকার খারাপভাবে চালাইতাছে দেশ?
ভিডিওতে তাকে আরও বলতে শোনা যায়, দেশের মধ্যে কত সংকট, জ্বালানি তেলের অভাব, অন্য দেশে যুদ্ধ চলতেছে—এসব বাদ দিয়া তুই আন্দোলন করস। আর কোনো দিন যদি রাস্তায় নামছস, একটারেও ঘরে ফিরে যাইতে দিতাম না। তুই এমপির যোগ্য? তোরে এমপির মতো লাগে? রাজনীতি করতে সবকিছু মিলায়া যোগ্যতা লাগে। রমজান মাস আইলে টুপি পইরা দাওয়াত খাইছস, এখন এমপি হইয়া গেছস। ভোট চুরি কইরা নির্বাচন কইরা এখন আবার আন্দোলন মারাও? তোমারে কেউ কিছু করতে পারবো না?...দেখছস কী, একবারে চোখ তুইল্লালবাম...। আজকে লাস্ট কথা কইয়া দিলাম—আর কোনো দিন যদি লাইভে আইয়া তালুকদারের বিষয়ে কথা কইছস, তোর অবস্থা খারাপ কইরালবাম।
হুমকির বিষয়ে সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ জানান, এলাকায় চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছে। তারা অস্থিরতা তৈরি ও সংঘাত বাধানোর চেষ্টা করছে। তবে এ ঘটনায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে আতঙ্কিত নন বলেও জানান।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি দলের কোনো পদধারী নেতা নন, সর্বোচ্চ একজন সমর্থক হতে পারেন। এটি রাজনৈতিক নয়, বরং ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে ঘটেছে বলে আমার ধারণা। আমি এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই সমর্থন করি না। বিষয়টি জানার পরপরই তাকে ভিডিওটি মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তা না করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য বিএনপি কর্মী সোহরাব হোসেনের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তারাকান্দা উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন ফয়েজী শনিবার বিকেলে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে থানায় গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাশিদ জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিওটিতে সংসদ সদস্যকে নিয়ে মানহানিকর মন্তব্য করা হয়েছে। তার প্রতিনিধির দেওয়া লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পরবর্তীতে সাইবার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।