সর্বশেষ ২০০৩ সালে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। এরপর কেটে গেছে ২৩ বছর। ঘরের মাঠে আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ দিয়ে দীর্ঘ সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাতে চান জাতীয় দলের নতুন কোচ টমাস ডুলি।

শনিবার ঢাকার একটি হোটেলে জমকালো আয়োজনে উন্মোচন করা হয় ২০২৬ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের লোগো। আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা। অনুষ্ঠানে টুর্নামেন্টের শিরোপা সহযোগী হিসেবে স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেকনোর নামও ঘোষণা করা হয়।

লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ দলের কোচ ডুলি, অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ ও তরুণ ফরোয়ার্ড শেখ মোরছালিন। সেখানেই ২৩ বছরের শিরোপা-খরা ঘোচানোর প্রত্যয়ের কথা জানান ডুলি।

হাভিয়ের কাবরেরার বিদায়ের পর বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়া ডুলির অধীনে এটিই হবে প্রথম সাফ। প্রতিপক্ষের নাম কিংবা শক্তি বিবেচনা না করে প্রতিটি ম্যাচ জয়ের মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামতে চান ১৯৯৮ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দেওয়া সাবেক এই ফুটবলার।

ডুলি বলেন, ‘আমি প্রতিটি ম্যাচই জিততে চাই। প্রতিপক্ষ জার্মানি, ব্রাজিল কিংবা আর্জেন্টিনা হোক অথবা র‌্যাঙ্কিংয়ে আমাদের আশপাশে থাকা কোনো দল, মানসিকতায় কোনো পার্থক্য থাকবে না।’

বাংলাদেশের দীর্ঘ শিরোপা-খরার কথাও জানা আছে তার। তবে ঘরের মাঠে সেই অপেক্ষা শেষ করা সম্ভব বলেই বিশ্বাস করেন তিনি।

বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘সবকিছুই সম্ভব। টুর্নামেন্টটিকে আমরা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে নিলে ট্রফি ঘরে তোলার দারুণ সুযোগ থাকবে। সাফ জয় আমাদের স্বপ্ন। আমার মনে হয়, সেই স্বপ্ন পূরণের সময় এখন এসেছে।’

দলের অভিযানে সমর্থন জোগাতে দর্শকদের মাঠে আসার আহ্বানও জানিয়েছেন ডুলি। ২০০৩ সালে ঘরের মাঠেই প্রথমবার সাফের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এবারও স্বাগতিক হওয়ার সুবিধা কাজে লাগাতে চান ফুটবলাররা।

তরুণ ফরোয়ার্ড মোরছালিন বলেন, ‘অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী না হয়ে আমরা স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে চাই। সাফে চ্যাম্পিয়ন হওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। ঘরের মাঠে যেভাবেই হোক জিততে হবে। এটি আমাদের জন্য দারুণ সুযোগ।’

অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপুও মনে করেন, ঘরের দর্শকের সমর্থন বাংলাদেশকে বাড়তি শক্তি দেবে। তাঁর ভাষায়, ‘নিজেদের দেশে খেলা হওয়ায় দর্শকেরা মাঠে থাকবেন। সেটি আমাদের বাড়তি শক্তি জোগাবে। আমাদের প্রমাণ করতে হবে, আমরাই সেরা এবং শিরোপার যোগ্য।’

রক্ষণ সামলানোই প্রধান দায়িত্ব হলেও প্রয়োজনের সময় গোল করে দলকে সাহায্য করতে চান তপু। তবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে ২৩ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে সাফের ট্রফি ফের বাংলাদেশের হাতে তোলাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।