রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে দুই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়, দুটি ফাইনালেই গোল। সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপেও ব্রাজিলের সেরা পারফরমারদের একজন। সেই ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবার রিয়াল ছেড়ে ইংল্যান্ডে পাড়ি দিতে পারেন। ব্রাজিলিয়ান তারকাকে দলে নেওয়ার সম্ভাবনা যাচাই করছে প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল।
খবরটি দিয়েছেন দ্য অ্যাথলেটিকের নির্ভরযোগ্য দলবদল সাংবাদিক ডেভিড অর্নস্টেইন। তার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আক্রমণভাগ শক্তিশালী করতে আর্সেনাল যে ফরোয়ার্ডদের বিবেচনা করছে, সেই তালিকার ওপরের দিকেই রয়েছেন ভিনিসিয়ুস।
তবে সম্ভাব্য দলবদলটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। আর্সেনাল ও রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি। দেওয়া হয়নি কোনো প্রস্তাবও। এমনকি আগ্রহটি শেষ পর্যন্ত আলোচনায় গড়াবে কি না, সেটিও এখনো নিশ্চিত নয়। তবে ভিনিসিয়ুসকে নেওয়ার পরিকল্পনাটি আর্সেনালের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব স্তরেই সমর্থন পেয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্নস্টেইন।
ভিনিসিয়ুসের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে রিয়ালের সঙ্গে তার চুক্তি। আট মৌসুম ধরে মাদ্রিদে থাকা ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালের জুনে। নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা হলেও এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি।
রিয়াল নিজেদের অন্যতম বড় তারকাকে আগামী বছর বিনা মূল্যে হারাতে চায় না। চুক্তির শেষ বছরে ভিনিসিয়ুসের জন্য বড় অঙ্কের আনুগত্য ভাতাও প্রাপ্য হবে। তাই নতুন চুক্তিতে সমঝোতা না হলে এই দলবদল মৌসুমেই তাকে বিক্রির সম্ভাবনা বিবেচনা করতে পারে স্প্যানিশ ক্লাবটি।
ভিনিসিয়ুসের বর্তমান বাজারমূল্য ১৪ কোটি ইউরো। বাংলাদেশের টাকায় যার পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা। তবে এটি তার আনুষ্ঠানিক দলবদল মূল্য নয়। আর্সেনাল প্রস্তাব দিলে রিয়াল কত টাকা চাইবে, সেটি এখনো জানা যায়নি।
২০১৮ সালে ফ্ল্যামেঙ্গো থেকে রিয়ালে যোগ দেওয়ার পর নিজেকে বিশ্বের সেরা উইঙ্গারদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ভিনিসিয়ুস। স্প্যানিশ ক্লাবটির হয়ে দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন তিনি। ২০২২ সালে লিভারপুল এবং ২০২৪ সালে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে ফাইনালে গোল করেছিলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।
রিয়ালের গত মৌসুমটি শিরোপাহীন কাটলেও ব্যক্তিগতভাবে ২২ গোল করেন ভিনিসিয়ুস। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের পাঁচ ম্যাচের সব কটিতেই খেলেছেন তিনি। নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলো থেকে বিদায়ের আগে চার গোল করেছিলেন এই ফরোয়ার্ড।
২৬ বছর বয়সী ভিনিসিয়ুসের মূল শক্তি বাঁ প্রান্ত দিয়ে গতি, ড্রিবলিং এবং সরাসরি গোলের সুযোগ তৈরি করা। তিনি আর্সেনালে যোগ দিলে মিকেল আরতেতার আক্রমণভাগে বিশ্বমানের একজন ম্যাচজয়ী ফুটবলার যুক্ত হবেন। তবে সম্ভাব্য দলবদল মূল্য ছাড়াও তাঁর বেতন আর্সেনালের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
এদিকে আরবি লাইপজিগের তরুণ উইঙ্গার ইয়ান দিয়োমান্দের প্রতি রিয়ালের আগ্রহ ভিনিসিয়ুসের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা আরও বাড়িয়েছে। দুজনই মূলত বাঁ প্রান্তে খেলেন এবং একই সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করেন। তবে দিয়োমান্দেকে নেওয়ার চেষ্টা ভিনিসিয়ুসকে বিক্রির প্রস্তুতি কি না, সেটি নিশ্চিত নয়।