ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের কয়েক মিনিট পর দিল্লির যন্তর মন্তরের মঞ্চ থেকে দেশটির প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্য থেকে এই আন্দোলনের জন্ম হয়েছে।

সমর্থকদের উদ্দেশে দিপকে বলেন, ‘আমি প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনি যদি আমাদের “তেলাপোকা” না বলতেন, তাহলে আমি ভারতে আসতাম না। এই আন্দোলনও শুরু হতো না।’

গত ১৫ মে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের পদবি নিয়ে একটি শুনানি হয়। সে সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেছিলেন, ‘এখানে তেলাপোকার মতো অনেক তরুণ আছে, যাদের কোনো চাকরি নেই, পেশাগত জীবনেও কোনো প্রতিষ্ঠা পায়নি।’

.

পরে সূর্য কান্ত ব্যাখ্যা দেন, তাঁর মন্তব্যটি বেকার তরুণদের উদ্দেশে নয়, আইনের ভুয়া ডিগ্রিধারীদের উদ্দেশে করা হয়েছিল। পরে তিনি আরও বলেন, সংবাদমাধ্যমের একটি অংশ তাঁর বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে। কিন্তু তাঁর এসব ব্যাখ্যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছড়ানো ঠেকাতে পারেনি।

পরের দিন ১৬ মে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে থাকা ভারতীয় শিক্ষার্থী অভিজিৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্সে’ প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে বিদ্রূপাত্মক প্রতিক্রিয়া জানান। একসময় আম আদমি পার্টির (আপ) যোগাযোগ কৌশলবিদ হিসেবে কাজ করা অভিজিৎ এই দিনই ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) গঠনে ঘোষণা দেন।

.

অভিজিৎ তখন বলেছিলেন, সিজেপি ‘সব তেলাপোকার’ জন্য একটি সাধারণ প্ল্যাটফর্ম। এর সদস্য হতে ‘বেকার হওয়া, অলস হওয়া, সব সময় অনলাইনে থাকা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারাকে’ যোগ্যতা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন তিনি। ব্যঙ্গাত্মকভাবে এসব যোগ্যতার কথা বললেও তা তরুণদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

মে মাসের শেষ দিকে ভারতের নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে ক্ষোভ বাড়তে থাকলে সিজেপির তৎপরতা গতি পায়। জুনের শুরুর দিকে দিপকে ভারতে ফিরে এসে যন্তর মন্তরের কাছে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।

পরীক্ষায় অনিয়মের দায়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছিল আন্দোলনের মূল দাবি। ২৮ জুন শিক্ষাবিদ ও অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করলে আন্দোলন আরও গতি পায়। তিনি ২৬ দিন অনশনের পর চলতি সপ্তাহে তা প্রত্যাহার করেন।

.‘তেলাপোকাদের’ আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী .

আন্দোলন দ্রুত ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের প্রধান প্রধান শহরে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এ পরিস্থিতিতে বিজেপির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার লিখিতভাবে আশ্বাস দেয়—শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হবে না, সংসদে পরীক্ষা সংস্কার ও জবাবদিহির বিষয়টি উত্থাপন করা হবে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

সরকারের আশ্বাসে ওয়াংচুক অনশন প্রত্যাহার করলেও ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকে সিজেপি। ২০ জুলাই আন্দোলনকারীদের লাঠিপেটা বকরা ও সরকারের কঠোর অবস্থানের পরও তারা আন্দোলন চালিয়ে যায়। আন্দোলনকারীদের অনমনীয় অবস্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হন।

.পদত্যাগপত্রে কী বার্তা দিয়ে গেলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান.

আজ শনিবার দুপুরের দিকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে ধর্মেন্দ্র নিজে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এক্সে দেওয়া পোস্টে ধর্মেন্দ্র লেখেন, ‘প্রথম দিন থেকেই আমি এর দায় নিয়েছি এবং পরিস্থিতি থেকে কখনো মুখ ঘুরিয়ে নিইনি।’

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লেখা পদত্যাগপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান লেখেন, তিনি ‘শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে’ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যন্তর মন্তর ও দেশের বিভিন্ন স্থানের পরিস্থিতির সুযোগ যেন ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি’ নিতে না পারে, সেটিও তাঁর সিদ্ধান্তের একটি বিবেচ্য বিষয় ছিল।

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি ছিল তিনটি। এগুলো হলো: ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ।