বিশ্বকাপ ফাইনালের পরাজয়ের বিষাদ কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন লিওনেল মেসি। স্পেনের কাছে হেরে যাওয়ার পর অধিনায়ক নিজেই স্বীকার করেছেন যে, এই ক্ষত সারতে সময় লাগবে। তবে এই হতাশার সময়েই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি হুয়ান রোমান রিকেলমে মেসির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, গত দুই দশক ধরে মেসি যেভাবে ফুটবল খেলে আসছেন, তাতে এখন আর বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ‘ওলে’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিকেলমে বলেন, ‘মেসির খেলা দেখে আনন্দ না পেয়ে উপায় নেই। সে ফুটবলটা অন্য সবার চেয়ে আলাদাভাবে খেলে। মাঠে হাঁটতে হাঁটতে চারপাশ পর্যবেক্ষণ করে। যখন আমরা গ্যালারিতে বা টিভিতে বসে নার্ভাস হই, তখন ও শান্ত মাথায় হিসাব মেলায়। ভাবে কোথায় যেতে হবে, কী করতে হবে। এমন সব দৃশ্য কল্পনা করে যা আর কখনো ঘটবে না। অবিশ্বাস্য সব ফুটবল উপহার দেন মেসি।’
সময়ের সাথে সাথে মেসির বিবর্তন রিকেলমেকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে। এই সাবেক প্লে-মেকার বলেন, ‘ছোটবেলায় মেসি অবিশ্বাস্য দ্রুতগতির ছিল। সবাই বলত, বলের চেয়েও নাকি দ্রুত দৌড়ায়। বল ওর পায়ে আঠার মতো লেগে থাকত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মেসি নতুন নতুন কৌশল খেলায় যোগ করেছে। দারুণ সব পাস দিতে শুরু করলে। ফ্রি-কিক থেকে গোল করা শুরু করল। ও আসলে সবই করতে পারে।’ রিকেলমের বিশ্বাস, টানা ২০ বছর ধরে সেরার ফুটবল খেলা মেসির ক্ষেত্রে এখন স্বাভাবিক ব্যাপার।
মেসির ফুটবল দক্ষতার পাশাপাশি তাঁর একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা স্মরণ করেন রিকেলমে। মেসির স্পেনের বয়সভিত্তিক দলে খেলার সুযোগ থাকলেও তিনি জন্মভূমি আর্জেন্টিনাকেই বেছে নিয়েছিলেন। এই সিদ্ধান্তের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রিকেলমে বলেন, ‘তাঁকে শুধু ধন্যবাদ জানানোটাই বাকি। আর্জেন্টাইন হিসেবে আমরা পরম ভাগ্যবান। তিনি স্পেনের হয়ে না খেলে আমাদের দেশের হয়ে খেলা বেছে নিয়েছিলেন।’
সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার হারের কারণ বিশ্লেষণ করেন বর্তমানে বোকা জুনিয়র্সের প্রেসিডেন্ট রিকেলমে। তাঁর মতে, কৌশলগত সমস্যার চেয়ে শারীরিক ক্লান্তি বেশি প্রভাব ফেলেছে। তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনা ফাইনালে গেছে ক্লান্তি নিয়ে। বিশ্রাম খুব কম পেয়েছিল। যদি আরও একটু বেশি বিশ্রামের সুযোগ পাওয়া যেত, ম্যাচের গল্পটা অন্য রকম হতে পারত। দেখুন, আমাদের দুজন সেন্টারব্যাকই চোটে পড়েছিলেন। ছেলেরা নিজেদের সাধ্যের সবটুকু ঢেলে দিয়ে খেলেছে। তাদের প্রতি আমাদের কেবল কৃতজ্ঞতাই প্রকাশ করার আছে।’
তবে চ্যাম্পিয়ন স্পেনের কৃতিত্ব অস্বীকার করেননি ৪৮ বছর বয়সী এই সাবেক ফুটবলার। তাঁদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি যোগ করেন, ‘স্পেন অসাধারণ ফুটবল খেলেছে। তারা জানত মাঠে কী করতে হবে। তারা শতভাগ যোগ্য দল হিসেবেই বিশ্বজয়ী হয়েছে। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’