ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের শিক্ষক যোগ্যতা পরীক্ষার (টিইটি) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত বিজেন্দ্র গুপ্তকে বিহার থেকে গ্রেপ্তার করেছে থানে সিটি পুলিশ। প্রায় ছয় লাখ চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে দেওয়া এই ঘটনার প্রায় এক মাস পর শনিবার তাঁকে পাকড়াও করা হয়। জানা গেছে, মহারাষ্ট্র থেকে পালিয়ে ভুয়া পরিচয় দিয়ে তিনি বিহারে আত্মগোপন করে ছিলেন।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, কোচিং সেন্টারের সাবেক শিক্ষক এবং একাধিক প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলার আসামি বিজেন্দ্র গুপ্তের বিরুদ্ধে তদন্ত দ্রুতগতিতে এগোচ্ছিল, যদিও তিনি দীর্ঘ সময় পলাতক ছিলেন। এদিকে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো রাজ্য সরকারের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দাদা ভুসের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করেছে। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই বিজেন্দ্রর গ্রেপ্তার সম্ভব হয়েছে।

গ্রেপ্তারের বিষয়ে ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (জোন ২) পবন বানসদ বলেন, ‘আজ সকালে আমরা তাঁকে বিহার থেকে গ্রেপ্তার করেছি। আমরা তাঁকে থানেতে নিয়ে আসছি। তাঁকে হেফাজতে নিতে আবেদন করার জন্য আদালতে হাজির করব।’

পুলিশ আরও জানিয়েছে, ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র কেনার চুক্তিতে জড়িত আরও কয়েকজনকে খোঁজা হচ্ছে যারা বর্তমানে আত্মগোপনে আছেন। পবন বানসদ আরও জানান, ‘যাঁদের আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁরা এখনো বিচার বিভাগীয় হেফাজতে আছেন। আমরা শিগগিরই মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেব।’

ঘটনার সূত্রপাত পরীক্ষার দুই দিন আগে, যখন থানে সিটি পুলিশ ভিওয়ান্ডির এক বাসিন্দার কাছ থেকে গোপন তথ্য পায়। ওই ব্যক্তি জানান, তিন ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে টিইটি প্রশ্নপত্র বিক্রির বিষয়ে যোগাযোগ করেছিলেন। পুলিশি অভিযানে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, অভিযুক্তদের কাছে প্রকৃত প্রশ্নপত্র ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিহার থেকে রাজীব কুমার ও আকাশ কুমার এবং হরিয়ানা থেকে ধীরজ সিংকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হয়।

তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, আগ্রার ‘মহিম পত্রন প্রাইভেট লিমিটেড’ নামক একটি ছাপাখানা ছিল এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের উৎস। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ছাপাখানার দুই বর্তমান ও এক সাবেক কর্মী জুতার সোলের ভেতরে প্রশ্নপত্রের কপি লুকিয়ে পাচার করেছিলেন। পুলিশের দাবি, বিজেন্দ্র গুপ্ত মাত্র আট হাজার টাকার বিনিময়ে ওই তিনজনকে এই কাজে ব্যবহার করেছিলেন।

গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার দীর্ঘ বছর ধরে মহারাষ্ট্রের বাইরে প্রশ্নপত্র ছাপিয়ে আসছিল, যার ফলে এবার আগ্রায় ছাপানো হয়েছিল। এই ছাপাখানার পরিচয় কেবল পরীক্ষা পরিষদের প্রধান জানতেন। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে একটি বেসরকারি সংস্থাকে দিয়ে পরীক্ষার কাজ করানো হলেও ২০২১ সালে প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর পুনরায় রাজ্যের বাইরে ছাপানোর পদ্ধতি চালু করা হয়। বর্তমান ঘটনায় সেই ব্যবস্থাও প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় স্কুল শিক্ষা বিভাগ বিকল্প সুরক্ষাব্যবস্থা খতিয়ে দেখছে। রাজ্য সরকার এখনো পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা করেনি।