কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির ফলে বর্তমানে ভুয়া প্রোফাইল তৈরি, বাস্তবসম্মত ছবি এবং মানুষের মতো কথোপকথন তৈরি করা অনেক সহজ হয়ে গেছে। এর ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকৃত মানুষ এবং কৃত্রিমভাবে তৈরি অ্যাকাউন্টের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যবহারকারীদের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য নতুন একটি সুবিধা চালুর ঘোষণা দিয়েছে ফেসবুক। ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ নামক এই ব্যবস্থার আওতায় সাধারণ ব্যবহারকারীরা সেলফি ভিডিও জমা দিয়ে বিনামূল্যে একটি বিশেষ যাচাইকরণ ব্যাজ পাবেন।

ফেসবুকের মতে, অনলাইনে অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের আস্থা বৃদ্ধি করতেই এই উদ্যোগ। প্রচলিত পেইড ভেরিফিকেশন বা অর্থের বিনিময়ে পাওয়া সেবার মতো এটি নয়; বরং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলেই সাধারণ ব্যবহারকারীরা এই ব্যাজটি পাবেন। যাচাইকরণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে ব্যবহারকারীকে একটি সংক্ষিপ্ত সেলফি ভিডিও ধারণ করে জমা দিতে হবে। ফেসবুক সেই ভিডিওর সাথে প্রোফাইল ছবির মিল যাচাই করে পরিচয় নিশ্চিত করবে। সব তথ্য সঠিক থাকলে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

তবে এই সুবিধা পেতে হলে ফেসবুকের আস্থা ও নিরাপত্তাবিষয়ক শর্তাবলি মেনে চলতে হবে। ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে প্রতারণা, জালিয়াতি কিংবা বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ডের কোনো ইতিহাস থাকা চলবে না। বর্তমানে কেবল ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী এবং নিয়ম মেনে পরিচালিত ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের ব্যবহারকারীরাই এই সুযোগ পাবেন। তবে পেজ বা ‘প্রফেশনাল মোড’ চালু থাকা প্রোফাইলগুলোর জন্য এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।

পরিচয় যাচাই হয়ে গেলে এই ব্যাজটি ব্যবহারকারীর প্রোফাইল, ফেসবুক মার্কেটপ্লেস, ডেটিং প্রোফাইল এবং বিভিন্ন গ্রুপে প্রদর্শিত হবে। ভবিষ্যতে নিউজ ফিডের পোস্টেও এই ব্যাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে ফেসবুকের।

প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, একবার পরিচয় যাচাই করলেই সমর্থিত সব জায়গায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাজটি দেখা যাবে এবং এর জন্য কোনো অর্থ দিতে হবে না। এর ফলে মার্কেটপ্লেসে বিক্রেতার পরিচয় যাচাই, ডেটিং সেবায় নতুন কারও সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা গ্রুপ আলোচনায় অংশ নেওয়ার সময় ব্যবহারকারীরা সহজেই বুঝতে পারবেন যে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টটি একজন প্রকৃত ব্যক্তির।

ফেসবুক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই ব্যাজটি কেবল নিশ্চিত করবে যে অ্যাকাউন্টটি একজন প্রকৃত মানুষের এবং তিনি সেলফি ভিডিওর মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করেছেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে ফেসবুক ওই ব্যবহারকারীর আচরণের নিশ্চয়তা দিচ্ছে বা তাকে সম্পূর্ণ বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে অনুমোদন করছে।

যাচাইকরণ সম্পন্ন হলেও ব্যবহারকারীদের ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ডস ও বাণিজ্য-সংক্রান্ত নীতিমালা মেনে চলতে হবে। প্রকৃত ব্যবহারকারীও প্ল্যাটফর্মের নিয়ম ভঙ্গ করতে পারেন বলে এই ব্যাজকে চূড়ান্ত নিরাপত্তা বা বিশ্বাসযোগ্যতার নিশ্চয়তা হিসেবে বিবেচনা না করার আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত কয়েকটি দেশে ধাপে ধাপে এই সুবিধা চালু করা হচ্ছে এবং পরবর্তীতে তা বিশ্বজুড়ে সম্প্রসারণ করা হবে। এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া কনটেন্ট ও নকল প্রোফাইলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রকৃত ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করার প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে বলে মনে করে ফেসবুক। নতুন এই যাচাইকরণ সুবিধা সেই প্রয়োজন পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে