যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে দুশ্চিন্তার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। তার মতে, নতুন শুল্ক আরোপ হলেও মোট শুল্কহারে কোনো পরিবর্তন আসেনি, কারণ গত ফেব্রুয়ারিতে আরোপিত ১০ শতাংশ শুল্কের মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্কারোপ প্রসঙ্গে মুক্তকণ্ঠের সঙ্গে আলাপচারিতায় বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্য রপ্তানিতে আমাদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এখনো বহাল আছে।’
শুল্কের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি জানান, গত বছর এপ্রিলে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে দর–কষাকষির মাধ্যমে তা ২০ শতাংশে এবং বাণিজ্যচুক্তির পর ১৯ শতাংশে নেমে আসে। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এই পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করেন। এরপর ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের অধীনে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। সেই শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন পুনরায় শুল্ক আরোপ করেছে।
এই বিষয়ে মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘পাল্টা শুল্ক স্থগিত হলেও তার সমপরিমাণ শুল্ক হিসাব করেই তৈরি পোশাকের দর–কষাকষি করে আসছে মার্কিন ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো। কারণ, তাদের ধারণা ছিল, অন্য কোনো উপায়ে সেই পরিমাণ শুল্ক আরোপ হতে পারে। এখন পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, তেমন কিছুই হতে যাচ্ছে। যদি কোনো কারণে প্রতিযোগী দেশগুলোর ওপর শুল্কহার বাংলাদেশের তুলনায় কম হারে হয়, তাহলে আমাদের পণ্য রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করলে ১০ শতাংশ শুল্ক ছাড়ের বিষয়ে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যচুক্তিতে এমন একটি বিষয় থাকলেও তারা এখনো সেই কাঠামো তৈরি করেনি। মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যচুক্তিতেও এমন একটি বিষয় ছিল। তবে সেই কাঠামো এখনো তারা করেনি। ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা দিয়ে উৎপাদিত পোশাক দেশটিতে রপ্তানি করে আমরা এখনো কোনো শুল্কছাড় পাচ্ছি না।’