ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম স্পষ্ট করে বলেছেন, ইসলামের নাম ব্যবহার করে অনৈতিকতা, উচ্ছৃঙ্খলতা কিংবা ধোঁকাবাজি করলেই তা ইসলাম হয়ে যায় না। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, "কালো বর্ণের লোকের নাম সাদা মিয়া রাখলেই যেমন সে সাদা হয়ে যায় না, তেমনি ইসলামের নাম দিয়ে অনৈতিকতা, উচ্ছৃঙ্খলতা, ধোঁকাবাজি করলে তা ইসলাম হয়ে যায় না।"

আজ শুক্রবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে তিনি এসব কথা বলেন। সৈয়দ রেজাউল করীম সতর্ক করে বলেন, “বরং ইসলামের নামে বিজাতীয় সংস্কৃতি, অনৈতিকতা, অনৈসলামিক কর্মকাণ্ড করা হলে তাতে ইসলাম কলঙ্কিত হয়।”

জাতির মুক্তি প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ভালো নেতা ও ভালো নীতি ছাড়া দেশের মুক্তি সম্ভব নয়। ভালো নেতা ও নীতির সমন্বয় না হলে উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সুশাসনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে না বলে তিনি মনে করেন। এছাড়া দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও মাদক নির্মূলে ইসলামের শ্রেষ্ঠ আদর্শের বিকল্প নেই বলে তিনি দাবি করেন।

বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে চরমোনাই পীর বলেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে যাদের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তারা দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে না। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের অনীহা প্রমাণ করে যে, তারা জনগণের পালস বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে।

একই সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বর্তমান সংসদীয় রাজনীতির সমালোচনা করে বলেন, “বর্তমানে সংসদে কার্যকরী কোনো বিরোধী দল নেই। জামায়াত জোটের সংসদ সদস্যরা সরকারের তল্পিবাহকে পরিণত হয়েছে। তারা সংসদে কুসুম কুসুম বিরোধিতা করে, কিন্তু জনগণের স্বার্থে কথা বলে না।”

তিনি আরও বলেন, “সংসদে অনেক অপ্রয়োজনীয় আলোচনা হয়, কিন্তু জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে শক্ত অবস্থানে নেই বিরোধী দল। তবে মাঠের বিরোধী দল হিসেবে আমরা কার্যকরী ভূমিকা পালন করব, ইনশা আল্লাহ।”

সরকারদলীয় হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদের চাঁদাবাজি সংক্রান্ত মন্তব্যের কথা উল্লেখ করে গাজী আতাউর রহমান বলেন, “সরকারদলীয় হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ বলেছেন, এ দেশে চাঁদাবাজি নির্মূল করা যাবে না। এটা দুঃখজনক। সরকারকে মানুষ ক্ষমতায় এনেছে দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য। যদি তাতেই তারা ব্যর্থ হয়, তাহলে সরকারের কাজটা কী?”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ, সহকারী মহাসচিব আহমাদ আবদুল কাইয়ুম এবং ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ প্রমুখ।