ফেনী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিরিঞ্চি এবং ১ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাপুর সংযোগস্থলে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বিরিঞ্চি-সোনাপুর সেতুটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেতুর মাঝের অংশ ধসে বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিন অন্তত ৩০ হাজার মানুষ চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। দ্রুত মেরামত বা পুনর্নির্মাণ করা না হলে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রায় তিন বছর আগে নির্মিত এই পুরোনো সেতুটি গত ৮-৯ বছর ধরে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এর ওপর দিয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করে। সেতুর মাঝ বরাবর তৈরি হয়েছে বড় গর্ত। পিলারের একাধিক স্থানে ক্ষয় ধরেছে, নিচের মূল কাঠামোতে দেখা দিয়েছে গভীর ফাটল এবং বিভিন্ন স্থানের কংক্রিট খসে পড়ে ভেতরের লোহার রড বেরিয়ে এসেছে। সেতুর নড়বড়ে অবস্থার কারণে যানবাহনের পাশাপাশি পথচারীদের হেঁটে পার হওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

সেতুর ঠিক পাশেই অবস্থিত পশ্চিম সোনাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ভাঙা সেতু পার হতে হয়। এলাকাটির যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই সেতু। এটি ব্যবহার করে ফেনী পৌরসভার ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড, কাজীরবাগ ইউনিয়নের একাংশসহ রুহিতিয়া, মধ্যম সোনাপুর, পশ্চিম সোনাপুর, পূর্ব সোনাপুর, শ্রীপুর ও অশ্বদিয়া এলাকার হাজার হাজার মানুষ জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন।

সেতুটির বেহাল দশার কারণে পণ্য পরিবহন যেমন থমকে গেছে, তেমনি জরুরি চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রেও চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘ আট-নয় বছর ধরে এই অবস্থা চললেও স্থায়ী কোনো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা।

নুর হোসেন নামে এক অভিভাবক বলেন, প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে শিশুরা স্কুলে যায়। যতক্ষণ না তারা ঘরে ফিরে আসে, আমরা আতঙ্কে থাকি। কখন কোন শিশু গর্তে পড়ে যায় বা দুর্ঘটনা ঘটে, সেই চিন্তায় অস্থির থাকতে হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাকির উদ্দিন জানান, আমার জানা মতে, সেতুটির কাজ এলজিইডির করার কথা। পৌরসভার ফান্ডে সংকট রয়েছে। এরপরেও আমি বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেব।

বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি বা দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সেতুটি জরুরি ভিত্তিতে পুনর্নির্মাণে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ ও দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।