বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে শুরুতে ঘটনাগুলো খেয়ালই করেননি স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। পরে ভিডিও দেখে আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের আচরণে ক্ষুব্ধ হয়েছেন এই বিশ্বকাপজয়ী কোচ। তার ভাষায়, ফাইনালের পর ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো ছিল অসহনীয় ও অগ্রহণযোগ্য।

বৃহস্পতিবার স্প্যানিশ টেলিভিশন টিভিইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিশ্বকাপ ফাইনালের পরের সংঘর্ষ নিয়ে প্রথমবার বিস্তারিত কথা বলেন দে লা ফুয়েন্তে। তিনি জানান, শিরোপা উদ্‌যাপনে ব্যস্ত থাকায় মাঠে ঠিক কী ঘটছিল, সেটি তখন বুঝতে পারেননি।

দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘সেই মুহূর্তে আমি কিছুই বুঝতে পারিনি, কারণ আমরা উদ্‌যাপন করছিলাম। তবে ঘটনাগুলো অসহনীয় ও অগ্রহণযোগ্য। এমন আচরণের অনুমতি দেওয়া যায় না।’

গত রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জেতে স্পেন। তবে শেষ বাঁশির পর দুই দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের সংঘর্ষে শিরোপা উদ্‌যাপনের দৃশ্য কিছুটা আড়ালে পড়ে যায়।

আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের সঙ্গে এরিক গার্সিয়া ও গাভির উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কিতে রূপ নেয়। পরে দুই দলের আরও কয়েকজন খেলোয়াড় সেখানে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুই দলের সদস্যদের আলাদা করতে হয়।

দে লা ফুয়েন্তে মনে করেন, বিশ্বকাপ ফাইনালে অংশ নেওয়া তারকা খেলোয়াড়দের কাছ থেকে এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির প্রতিও সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, নিজের দলের কয়েকজনের প্রতিক্রিয়া দেখে স্কালোনিও নিশ্চয়ই অস্বস্তিতে পড়েছেন।

স্পেনের খেলোয়াড়দের আচরণের প্রশংসা করে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘আক্রমণ ও উসকানির মুখেও আমাদের আচরণকে আমি গুরুত্ব দিই। আমাদের খেলোয়াড়েরা ভালো ক্রীড়াবিদের মতো সব সময় সংযম ধরে রেখেছিল।’

ফাইনালের পরের সংঘর্ষ নিয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা একজন শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বিষয়ক বিশেষজ্ঞকে ঘটনার ভিডিও ও প্রতিবেদন পর্যালোচনার দায়িত্ব দিয়েছে। তবে তদন্ত শেষ কিংবা সম্ভাব্য শাস্তি ঘোষণার কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।

ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ। এরপর দশজন নিয়েই অতিরিক্ত সময় খেলেছিল ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়নরা।