জাতীয় দলের নতুন কোচ খুঁজতে গিয়ে শুরুতেই ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের কোচ কার্লো আনচেলত্তির দিকে হাত বাড়িয়েছিল চার বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি। ব্রাজিলের বর্তমান কোচকে পাওয়ার চেষ্টা সফল না হওয়ার পর পেপ গার্দিওলার সঙ্গে আলোচনা শুরু করে আজ্জুরিরা।

ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পাওলো মালদিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গার্দিওলার সঙ্গে যোগাযোগের আগেই আনচেলত্তিকে প্রস্তাব দিয়েছিল ইতালি।

মালদিনি বলেন, ‘পেপের সঙ্গে আলোচনার আগে কার্লোর সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছিল, সেটি লুকানোর কিছু নেই। বিশ্বের সেরা কোচদের দিয়েই খোঁজ শুরু করাটা আমাদের কাছে স্বাভাবিক মনে হয়েছে।’

আনচেলত্তির সঙ্গে মালদিনির সম্পর্কও বেশ পুরোনো। ইতালি জাতীয় দল ও এসি মিলানে একসঙ্গে খেলেছেন তারা। বর্তমানে ব্রাজিলের দায়িত্বে থাকা আনচেলত্তি ২০২৫ সালে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কোচ হন। গত মে মাসে তার চুক্তির মেয়াদ ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

২০২৬ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয় নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নেয় ব্রাজিল। বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পরও ৬৭ বছর বয়সী আনচেলত্তির ওপর আস্থা রেখেছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন। ইতালির আগ্রহের মধ্যেই সংস্থাটি জানিয়ে দিয়েছে, আনচেলত্তি ব্রাজিলের দায়িত্বে থাকছেন।

আনচেলত্তিকে না পাওয়ার পর ইতালির নজর এখন গার্দিওলার দিকে। ম্যানচেস্টার সিটিতে এক দশকের সফল অধ্যায় শেষ করে চলতি গ্রীষ্মে দায়িত্ব ছেড়েছেন স্প্যানিশ এই কোচ। ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি জিওভান্নি মালাগো এরই মধ্যে গার্দিওলার সঙ্গে আলোচনার কথা নিশ্চিত করেছেন।

তবে গার্দিওলাকে নিয়োগের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে তার বেতনের দাবি। ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যম গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্তের দাবি, বছরে দুই কোটি ইউরো বেতন চাইছেন ৫৫ বছর বয়সী এই কোচ। ইতালির প্রস্তাবিত অঙ্কের তুলনায় সেটি প্রায় দ্বিগুণ।

এ বিষয়ে এখনই বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি মালদিনি। তবে সপ্তাহের শেষ নাগাদ নতুন কোচ নিয়োগের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তাড়াহুড়া করে কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে সঠিক ব্যক্তিকেই বেছে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ইতালির সাবেক এই অধিনায়ক।

ম্যানচেস্টার সিটিতে দশ বছরে ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ, তিনটি এফএ কাপ, পাঁচটি লিগ কাপ ও একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন গার্দিওলা। জাতীয় দলের কোচ হিসেবে তার কোনো অভিজ্ঞতা না থাকলেও ইতালির ফুটবল পুনর্গঠনের জন্য তাকেই অন্যতম প্রধান পছন্দ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপে জায়গা করতে ব্যর্থ হওয়ার পর গত এপ্রিলে ইতালির দায়িত্ব ছাড়েন জেন্নারো গাত্তুসো। এরপর থেকেই নতুন কোচের সন্ধানে রয়েছে আজ্জুরিরা। আনচেলত্তি ও গার্দিওলার পাশাপাশি আন্তোনিও কন্তে, রবার্তো মানচিনি ও আন্দ্রেয়া পিরলোর নামও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছে।