পাবনার ফরিদপুর উপজেলার বিএলবাড়ী ইউনিয়নের দেওভোগ-দহপাড়া গ্রামে ১ কোটি ৬ লাখ টাকারও বেশি ব্যয়ে নির্মিত একটি গার্ডার ব্রিজ (সেতু) কোনো কাজে আসছে না। কাজ শেষ হওয়ার দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় বাধ্য বাঁশের সাঁকো দিয়ে সেতুতে উঠতে হয় স্থানীয়দের।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির পূর্ব পাশে দহপাড়া জামে মসজিদ এবং পশ্চিম পাশে দহপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও মুসুল্লিসহ কয়েক হাজার মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। তবে এপ্রোচ সড়ক ও গার্ডওয়ালের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় তাদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ১ কোটি ৬ লাখ ৩৮ হাজার ৯৫ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ৮ নভেম্বর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে ঠিকাদার কাজের সময় বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে কাজ শুরু করেন। বর্ধিত ওই মেয়াদের কাজ শেষের সময় ছিল ২০২৬ সালের ৩০ জুন। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও সংযোগ সড়কের কাজ এখনও শেষ করা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল মান্নান প্রামাণিক বলেন, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সেতুটি এভাবে পড়ে আছে। সংযোগ সড়ক না থাকায় আমরা বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছি। ছোট ছোট স্কুলশিক্ষার্থীরাও একইভাবে পারাপার হচ্ছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সেতু নির্মাণের সময় নিজের এক কাঠারও বেশি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
দহপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা নূর মোহাম্মদ বলেন, প্রতিদিন কাদা ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ পাড়ি দিয়ে মসজিদে যেতে হয়। বর্ষাকালে দুর্ভোগ আরও বাড়ে, অনেক সময় কাদা-পানিতে পা পিছলে জামাকাপড় নষ্ট হয়ে যায়।
একই আক্ষেপ স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থী আব্দুর রহমানের কণ্ঠে। সে বলে, বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হতে খুব ভয় লাগে। কতবার নিচে পড়ে বইখাতা ভিজে গেছে। ভয়ে স্কুলেও আসতে মন চায় না।
স্থানীয় শিক্ষক আব্দুল লতিফ বলেন, সরকারি বিপুল অর্থে নির্মিত একটি স্থাপনা এভাবে অচল পড়ে থাকবে, তা মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানাচ্ছি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, একাধিকবার উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
কাজের বিলম্ব নিয়ে ঠিকাদার তানভীর আহম্মেদ সাগর বলেন, মূলত স্থানীয়ভাবে বালুসংকটের কারণে এতদিন কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছিল। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষ করার জন্য তারা চেষ্টা চালাচ্ছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মানিকুজ্জামান বলেন, ঠিকাদারকে দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করার জন্য বারবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি খুব শিগগিরই কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন।
ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে ইমামা বানীন বলেন, ঠিকাদারকে এপ্রোচ সড়কসহ সব কাজ দ্রুত শেষ করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার চূড়ান্ত বিল স্থগিত রাখা হবে বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।