বাংলাদেশকে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক উদ্ভাবনের একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে আগামীকাল শনিবার থেকে ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বিয়ার সামিট ২০২৬’। রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং সিলিকন রিভার বাংলাদেশ কর্মসূচির যৌথ উদ্যোগে এই আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি ক্লাবে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে সম্মেলনের বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। ওই অনুষ্ঠানে বিএসআইএর সভাপতি ও নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেডের এমডি এম এ জব্বার, বিএসআইএর সহসভাপতি ও মার্স সলিউশনসের এমডি মাহবুবে এলাহী চৌধুরী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসচিব মো. আনোয়ার হোসেন, আইটেস্ট বাংলাদেশের পরিচালক মনির আহামেদ এবং সামিট আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুহাম্মদ মুস্তাফা হুসাইন উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে নীতিনির্ধারক, বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের শীর্ষ নির্বাহী, গবেষক, উদ্যোক্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, বিনিয়োগকারী, স্টার্টআপ উদ্যোক্তা ও প্রবাসী বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন। দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক কৌশল প্রণয়নে তাঁরা মতামত প্রদান করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, আইসিটি বিভাগের উপদেষ্টা রেহান আসাদ, বিএসআইএর সভাপতি এম এ জব্বার এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসচিব এম আনোয়ার হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এবং বিয়ার ও সিলিকন রিভার বাংলাদেশের প্রধান স্থপতি মুহাম্মদ মুস্তাফা হুসাইন।
আয়োজকদের মতে, “সম্মেলনে সেমিকন্ডাক্টর খাতে দক্ষ জনবল তৈরি, ইকোসিস্টেম গঠন, বৈশ্বিক অংশীদারত্ব, গবেষণা, উন্নত উৎপাদনব্যবস্থা, বাণিজ্যিকীকরণ, উদীয়মান ডিপ-টেক প্রযুক্তি ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা হবে।”
‘বৈশ্বিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই সামিটের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বক্তব্য রাখবেন টেক্সাস ইনস্ট্রুমেন্টসের চিফ টেকনোলজি অফিসার আহমেদ বাহাই এবং পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক দিমিত্রিওস পেরুলিস।
সামিটের অংশ হিসেবে সাতটি কৌশলগত প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সেমিকন্ডাক্টর খাতের দক্ষ জনবল তৈরি, ইকোসিস্টেম গঠন, বৈশ্বিক অংশীদারত্ব, গবেষণা, উন্নত উৎপাদনব্যবস্থা, বাণিজ্যিকীকরণ ও উদীয়মান ডিপ-টেক প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করবেন সরকারি প্রতিনিধি, বিএসআইএর সদস্য প্রতিষ্ঠান, দেশি-বিদেশি শিক্ষাবিদ, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং আন্তর্জাতিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্প সংগঠনের প্রতিনিধিরা। আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে গ্লোবালফাউন্ড্রিজ, এনএক্সপি, অ্যাপ্লায়েড ম্যাটেরিয়ালস, স্যানডিস্ক, ক্রেডো ও ভিয়েতনাম সেমিকন্ডাক্টর অ্যালায়েন্স অ্যান্ড পার্টনারশিপের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।
দ্বিতীয় দিনে ‘বাংলাদেশের ডিপ-টেক ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক একটি সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে উদীয়মান গবেষকেরা তাঁদের কাজ উপস্থাপন করবেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের নেতৃত্বে সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তি এবং ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেমসহ বিভিন্ন ডিপ-টেক উদ্ভাবন প্রদর্শিত হবে।
সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে আটটি কৌশলগত জাতীয় দলিল প্রকাশ করা হবে। এই দলিলগুলোতে সরকারি নীতি প্রণয়ন, শিল্প বিনিয়োগ, দক্ষ জনবল উন্নয়ন, শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা, বাণিজ্যিকীকরণ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের দীর্ঘমেয়াদি দিকনির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।