রাজধানীর তেজগাঁও লিংক রোড হয়ে গুলশান ১ নম্বরের প্রবেশপথে অবস্থিত বেঙ্গল গ্রুপের মালিকানাধীন নির্মাণাধীন ২৭ তলা ভবন ‘সুইস টাওয়ার’ কিনে নিচ্ছে বেসরকারি খাতের পূবালী ব্যাংক। আন্তর্জাতিক তারকা চেইন হোটেল ‘সুইসটেল’ করার পরিকল্পনা থাকলেও আর্থিক সংকটের মুখে ভবনটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেঙ্গল গ্রুপ।

গত বুধবার পূবালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় ৮০০ কোটি টাকায় ভবনটি কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হওয়ায় আইনি বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের এই বিষয়ে অবহিত করেছে ব্যাংকটি। তবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের পর।

প্রায় ৫৮ কাঠা জমির ওপর নির্মিত এই ২৭ তলা ভবনের ৩ তলা বেজমেন্ট বা মাটির নিচে। ভবনটি কেনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে পূবালী ব্যাংক তাদের প্রধান কার্যালয় বর্তমানে মতিঝিলে নিজস্ব ভবন থেকে এখানে স্থানান্তর করবে।

জানা গেছে, ব্যাংকঋণ পরিশোধের লক্ষ্যেই ভবনটি বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে বেঙ্গল গ্রুপ। এই ভবন নির্মাণে ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) ও ইডকল থেকে ৩০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ নেওয়া হয়েছিল। এছাড়া গ্রুপের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেরও বড় অঙ্কের ঋণ রয়েছে, যা এই বিক্রয়লব্ধ অর্থ দিয়ে পরিশোধের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মো. জসিমউদ্দিন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘এই ভবনে সুইসটেল হোটেল করার কথা ছিল। ভবনের মূল কাঠামো এরই মধ্যে দাঁড়িয়ে গেছে। ৩৭০টি হোটেলকক্ষ হওয়ার কথা ছিল ভবনটিতে। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আমাদের গ্রুপের তিনটি কারখানা পুড়ে যায়। এতে আমরা আর্থিক সংকটে পড়েছি। এ কারণে ভবনটি বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবনটি বিক্রি করতে পারলে আমরা বড় অঙ্কের ব্যাংকঋণ পরিশোধ করব। ভবনটি বিক্রির বিষয়ে পূবালী ব্যাংকের সঙ্গে কথাবার্তা হয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।’

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, মতিঝিলে বর্তমানে ব্যাংকটির নিজস্ব ভবনে প্রায় ৫৫ হাজার বর্গফুট জায়গা রয়েছে, যা তাদের বর্তমান চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত। অন্যদিকে বেঙ্গল গ্রুপ ভবনটির জন্য ক্রেতা খুঁজছিল। দুই পক্ষের আগ্রহ ও দরদাম চূড়ান্ত হওয়ার পর পর্ষদ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পূবালী ব্যাংকের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) মোহাম্মদ লিটন মিয়া মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘বর্তমানে মতিঝিলে আমাদের নিজস্ব যে ভবনে প্রধান কার্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তাতে আমাদের স্থান সংকুলান হচ্ছে না। তাই আমরা বেশ কিছুদিন ধরে নতুন ভবন খুঁজছিলাম। সবকিছু মিলে যাওয়ায় সুইস টাওয়ার ভবনটি কিনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আমরা হিসাব করে দেখেছি, এই বিনিয়োগ দীর্ঘ মেয়াদে আমাদের জন্য লাভজনক।’

বেসরকারি খাতের শীর্ষ মুনাফাকারী ব্যাংকগুলোর অন্যতম পূবালী ব্যাংক গত বছর প্রথমবারের মতো ১ হাজার ৯০ কোটি টাকা কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ শেষে ব্যাংকটির আমানতের পরিমাণ প্রথমবারের মতো লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

ব্যাংক খাত-সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, সাম্প্রতিক এক দশকে দেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলোর প্রধান কার্যালয় দিলকুশা ও মতিঝিল থেকে অভিজাত এলাকা গুলশানে স্থানান্তরের একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। পূবালী ব্যাংকের এই পদক্ষেপ সেই ধারারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।