আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার এক সভা করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। সভায় তিনি ব্যাংকটির সুশাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঋণ আদায় জোরদার করার পরামর্শ দেন। একইসঙ্গে ব্যাংক পরিচালনায় পূর্ণাঙ্গ পেশাদারিত্ব বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান করেন গভর্নর। উক্ত সভায় আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান বদিউর রহমান এবং নির্বাহী কমিটির (ইসি) চেয়ারম্যান সেলিম রহমানসহ মোট আটজন পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

গত ১৫ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদে পুরোনো শেয়ারধারীদের ফিরিয়ে আনে। এর ফলে আগের ৫ জন স্বতন্ত্র পরিচালকের পাশাপাশি পুরোনো শেয়ারধারী উদ্যোক্তাদের মধ্য থেকে ১৪ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়। পরবর্তীতে নতুন সদস্যদের মধ্য থেকে চেয়ারম্যান, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন কমিটির প্রধান নির্বাচিত হন।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শেয়ারধারী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনোনীত স্বতন্ত্র পরিচালকদের মাধ্যমে ব্যাংকটি পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাংকটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন সদস্যদের সঙ্গে আজ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংক, যেখানে ঢাকায় অবস্থানরত সদস্যদের উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানানো হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষে গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।

সভা শেষে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান বদিউর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘নিয়ম মেনে ব্যাংক পরিচালনা করতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণ আদায়ে জোর দিতে বলেছে। আমি ব্যাংকের সুশাসনের বিষয়টা দেখছি। আর ইসি চেয়ারম্যান ঋণ আদায় ও নতুন বিনিয়োগের বিষয়টা দেখছেন। ব্যাংকে সুশাসন নিশ্চিতে সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি কমিটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষক থাকছেন। ফলে নতুন করে কোনো সমস্যা হওয়ার সুযোগ নেই।’

উল্লেখ্য, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক এস আলম গ্রুপ ও কেডিএস গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল। সে সময় ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এস আলমের (সাইফুল আলম) ভাই আবদুস সালাম। ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ওই পর্ষদ বাতিল করে পাঁচ সদস্যের স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেয়, যারা এতদিন ব্যাংকটি পরিচালনা করছিলেন। বর্তমানে ব্যাংকটি পুনরায় কেডিএসসহ শেয়ারধারী পরিচালকদের হাতে ফিরেছে।