বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১০ গোল করে গোল্ডেন বুট জয় এবং ২০২৫–২৬ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সব প্রতিযোগিতায় ৪২টি গোল করার পর ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে আলোচনায় এসেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। লা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে ২৫টি গোল করা এই ফরাসি তারকা ব্যক্তিগতভাবে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও দলগত অর্জনে শূন্য হাতে রয়েছেন।

এমবাপ্পের দল ফ্রান্স বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদও চ্যাম্পিয়নস লিগ, লা লিগা, কোপা দেল রে এবং স্প্যানিশ সুপার কোপা—এই চারটি প্রতিযোগিতার কোনোটিতেই শিরোপা জিততে সক্ষম হয়নি। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, পুরো মৌসুমে একটি ট্রফিও না জিতে কি ব্যালন ডি’অর পাওয়া সম্ভব?

ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক লেকিপের তথ্যমতে, ইতিহাস বলছে এমন ঘটনা বিরল হলেও অসম্ভব নয়। ১৯৫৬ সালে প্রথম ব্যালন ডি’অরজয়ী স্ট্যানলি ম্যাথিউস কোনো দলীয় শিরোপা ছাড়াই এই পুরস্কার জিতেছিলেন; সে সময় তিনি ব্ল্যাকপুলে খেলতেন। এরপর ১৯৬৪ সালে ডেনিস ল (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও স্কটল্যান্ড) এবং ১৯৭৮ সালে কেভিন কিগান (হামবুর্গ ও ইংল্যান্ড) ট্রফিশূন্য মৌসুম শেষে এই সম্মাননা অর্জন করেন।

সাম্প্রতিক সময়েও এর দৃষ্টান্ত রয়েছে। ২০০০ সালে রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগিজ তারকা লুইস ফিগো ক্লাব বা জাতীয় দলের হয়ে কোনো বড় ট্রফি না জিতেই ব্যালন ডি’অর পান। ২০১৩ সালে দ্বিতীয়বারের মতো এই পুরস্কার জেতেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, তখনও তিনি ট্রফিশূন্য ছিলেন।

এমবাপ্পের বর্তমান পরিস্থিতির সাথে সবচেয়ে বেশি মিল পাওয়া যায় জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলারের। ১৯৭০ সালে বায়ার্ন মিউনিখ বা পশ্চিম জার্মানির হয়ে কোনো শিরোপা না জিতলেও ইউরোপের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং বিশ্বকাপে ১০ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন তিনি। ফাইনালে খেলতে না পারলেও সেই বছর সেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি পান মুলার।

বিশ্বকাপে ১০ গোল এবং রিয়ালের হয়ে ৪২ গোলের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য এমবাপ্পেকে ব্যালন ডি’অরের অন্যতম দাবিদার করে তুলেছে। লেকিপের অনলাইন পাঠক জরিপেও বর্তমানে এগিয়ে আছেন এই ফ্রান্স অধিনায়ক। তবে চূড়ান্ত ফলাফল জানা যাবে আগামী ২৬ অক্টোবর, যখন ঘোষণা করা হবে ৭০তম ব্যালন ডি’অর বিজয়ীর নাম।