২০১৮ সালে প্রথম একক প্রদর্শনী ‘ধূসর রেখা বৃত্তি’ দিয়ে তিনি অনেকেরই নজর কেড়েছিলেন। রেখাচিত্রের ভিন্ন এক উপস্থাপনভঙ্গি নিয়ে তখন তিনি হাজির হয়েছিলেন আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ গ্যালারিতে। এর ধারাবাহিকতা ধরা পড়ে ২০২০ সালের ঢাকা আর্ট সামিটে। সেখানে ড্রয়িং বা রেখাচিত্রের স্থাপনা নিয়ে তাঁর উপস্থিতি ছিল আরও বড় পরিসরে। তখনই এটা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল যে তিনি তাঁর কাজ ও উপস্থাপনার একটি নিজস্ব ধরন দাঁড় করিয়ে ফেলেছেন।
আর্ট সামিটে তিনি আর ‘নজর কাড়ায়’ আটকে থাকেননি, পুরস্কারই কেড়ে নিয়েছেন। সামদানি আর্ট অ্যাওয়ার্ড পান সোমা সুরভী জান্নাত। জুরিদের মতে, তিনি এই পুরস্কার পেয়েছেন তাঁর ‘অতি উদ্ভাবনী রেখাচিত্র, স্থাপনা ও চিত্রকলার চর্চা’র জন্য। তাঁদের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, সুরভীর সৃষ্টি একদিকে যেমন একেবারেই তাঁর নিজস্ব, আবার একইভাবে সমাজ–সচেতনও। স্পেসের ওপর তাঁর দখল ক্যানভাসের সীমা, এমনকি কখনো স্টুডিও সীমাকেও অতিক্রম করে গল্প বলার এক নতুন ও কল্পনানির্ভর ধারণাকে তুলে ধরে।
.এই পুরস্কার ও স্বীকৃতি সুরভীর শিল্পযাত্রাকে এক নতুন মাত্রা দেয়। সুফি দর্শনে একটি কথা আছে—গন্তব্য নয়, পথই মনজিল। শিল্পের ক্ষেত্রেও সম্ভবত যাত্রাই সব। এর কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্য থাকে না, সময়সীমা থাকে না, এর থেমে যাওয়া বলেও কিছু নেই। তবে আপাতত সুরভীর এই শিল্পযাত্রার একটি স্থানাঙ্ক হচ্ছে যুক্তরাজ্যের প্রাচীনতম পাবলিক জাদুঘর অ্যাশমোলিয়ান মিউজিয়াম। অক্সফোর্ডের এই শিল্প ও প্রত্ন জাদুঘরে এখন চলছে সুরভীর একক প্রদর্শনী।
কীভাবে এতটা পথ হাঁটলেন সুরভী? ঢাকা আর্ট সামিটের পুরস্কার আন্তর্জাতিক পরিসরে তাঁর কাজ সম্পর্কে জানার একটি সুযোগ তৈরি করে দেয়। সেই সূত্রেই অক্সফোর্ডের অ্যাশমোলিয়ান মিউজিয়ামে এক রেসিডেন্সি কর্মসূচির জন্য তাঁর নাম প্রস্তাব করেন সেখানে গবেষণারত কয়েকজন শিক্ষার্থী। নানা যাচাই–বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সুরভী ‘আর্টিস্ট ইন রেসিডেন্সি’ হিসেবে নির্বাচিত হন। এই রেসিডেন্সিতে জাদুঘরের শিল্পসংগ্রহ ও কাজ সমসাময়িক শিল্পীদের সামনে তুলে ধরা হয়। এটা শুধু গ্যালারির কাচের আড়ালে থাকা শিল্পকর্ম দেখার সুযোগ নয়, অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা স্টাডিরুম ও সংরক্ষণাগারেও প্রবেশাধিকার পান। লক্ষ্য হচ্ছে—জাদুঘরের ঐতিহাসিক সংগ্রহ থেকে যেন শিল্পীরা কিছু নিতে পারেন, অনুপ্রাণিত হয়ে নতুন কিছু সৃষ্টি করতে পারেন। এই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছেন সুরভী।
শৈল্পিক কোনো প্রক্রিয়াই তাড়াহুড়ার বিষয় নয়। দরকার ধীরতা ও স্থাণুতার। মিউজিয়ামের শিল্পকর্ম থেকে আইডিয়া নেওয়ার ক্ষেত্রে সুরভী সেই নীতিতেই স্থির থেকেছেন। তিনি সময় নিয়ে এবং খুব নিবিড়ভাবে শত শত মিনিয়েচার, পেইন্টিংস, ভাস্কর্য ও সিরামিকসের কাজ পর্যবেক্ষণ করেছেন। এ যেন শিল্পসমুদ্র মন্থন করে অমৃত লাভের চেষ্টা।
.একজন শিল্পী যা সৃষ্টি করেন, তা তিনি নিজে যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান, তার বাইরের কিছু নয়। তা দেখার, শোনার, পড়াশোনার, জীবনযাপনের, পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের বা ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্নের কিংবা স্বপ্ন-কল্পনা যা–ই হোক না কেন। সুরভীর সৃষ্টিও তাঁর অভিজ্ঞতা বা অভিজ্ঞতালব্ধ চিন্তা বা কল্পনারই ফল। ঢাকার চারুকলা থেকে অনার্স করার পর তিনি মাস্টার্স করেছেন বিশ্বভারতী শান্তিনিকেতনে। সেখানে তিনি প্রকৃতির কাছাকাছি থেকেছেন, সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর সংস্পর্শে এসেছেন। মানুষ, প্রকৃতি ও প্রাণীর মধ্যের সম্পর্ক এবং এসব নিয়ে আগ্রহ তাঁর মধ্যে নতুন চিন্তা ও বোধের জন্ম দিয়েছে। মানুষ হিসেবে আমরা আমাদের চোখ দিয়ে প্রাণ-প্রকৃতি দেখি। প্রাণীরা কীভাবে দেখে? কী দেখে? একজন শিল্পীর মনেই তো এমন ভাবনা ও কৌতূহলের জন্ম নেবে। সুরভীর ভাবনা ও কল্পনার জগতে এই বিষয়গুলো নানাভাবে ঘুরেফিরে এসেছে।
রেসিডেন্সিতে থাকার সময় মিউজিয়ামের শিল্পসংগ্রহ থেকে তিনি তাঁর মতো করে বেছে ও ছেঁকে মাথায় নিয়েছেন অনেক কিছু। তা প্রতীক, রং বা আঁকার স্টাইল, যা–ই হোক না কেন। ফিরে এসে তিনি কিছু কাজ করেছেন, যেখানে স্বাভাবিকভাবেই রেসিডেন্সির অভিজ্ঞতার প্রভাব পড়েছে। এই কাজগুলোর কয়েকটি শ্রীলঙ্কার কনটেমপোরারি আর্ট ফেস্টিভ্যাল ‘কলম্বোস্কোপ’–এ প্রদর্শিত হয়। কাজগুলো দেখে আগ্রহী হয়ে ওঠেন অ্যাশমোলিয়ান মিউজিয়ামের সাউথ এশিয়ান আর্ট বিভাগের কিউরেটর অধ্যাপক মল্লিকা কুম্বেরা ল্যান্ড্রাস। তিনি সরাসরি শ্রীলঙ্কায় এসে কাজগুলো দেখেন এবং বুঝতে পারেন যে অ্যাশমোলিয়ান মিউজিয়ামের সংগ্রহ সুরভীর ভাবনা ও শিল্পচর্চার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। এর ভিত্তিতেই অ্যাশমোলিয়ান মিউজিয়ামে সুরভীর একক প্রদর্শনীর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
.প্রিয় বিষয় প্রাণ, প্রকৃতি ও মানুষ বা এর পারস্পরিক সম্পর্ক—এই সবকিছু মিলিয়ে তিনি প্রদর্শনীর মূল থিম হিসেবে বেছে নেন সুন্দরবনকে। এরপর প্রায় তিন বছর ধরে আঁকা ছবিগুলো নিয়েই তিনি হাজির হন প্রদর্শনীতে। রেসিডেন্সিতে শিল্পসংগ্রহ নিয়ে তাঁর নিবিড় পর্যবেক্ষণ, গবেষণা ও কাজ করার অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ হয়েছে তাঁর ‘ক্লাইমেট কালচার কেয়ার’ শিরোনামের প্রদর্শনীটি।
কয়েকটি সিরিজে সুরভীর মোট ২২টি কাজ রয়েছে প্রদর্শনীতে। এর মধ্যে একটি কাজ ‘ইন আ টাইমলেস সুইট ল্যান্ড’ পুরোনো। সুরভীর গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাটে। ছোটবেলা থেকে নিয়মিত আসা-যাওয়া ছিল সেখানে। ছবিটি সেই সব স্মৃতি নিয়ে আঁকা। খাবারের টেবিলে মা আর তুতো ভাইবোনদের সঙ্গে। পারিবারিক সম্পর্কের উষ্ণতা ছড়িয়ে আছে ছবিজুড়ে। এর চারপাশ ঘিরে রেখেছে শৈশবের মুক্ত জীবনের নানা নস্টালজিক স্মৃতি। বাকি সব কাজ রেসিডেন্সিতে বিভিন্ন কাজ দেখা এবং সেখান থেকে নানা ‘অনুপ্রেরণা’ নেওয়ার পর আঁকা। স্থান ও অভিজ্ঞতার পার্থক্য সুরভির ভাবনা–প্রক্রিয়াকে কীভাবে প্রভাবিত করেছে, তার কিছুটা হলেও বুঝতে সহায়তা করে এই পুরোনো কাজ।
অক্সফোর্ডের অ্যাশমোলিয়ান মিউজিয়ামে সুরভির প্রদর্শনী ও শিল্পকর্মগুলো সম্পর্কে আপাতত ধারণা পাওয়ার মাধ্যম হচ্ছে প্রদর্শনী উপলক্ষে প্রকাশিত একটি ক্যাটালগ ও শিল্পীর সঙ্গে বাক্যালাপ। ক্যাটালগটি প্রদর্শনীটি সম্পর্কে একটি বিস্তৃত ধারণা দেয়। প্রতিটি কাজ সম্পর্কে ব্যাখ্যা-বর্ণনা আছে। তবে তাঁর কাজ এত সূক্ষ্ম রেখাচিত্র–নির্ভর যে ক্যাটালগের ছবিগুলো দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মতো।
.অ্যাশমোলিয়ান মিউজিয়ামে সুরভীর শৈল্পিক যে যাত্রা, তার প্রভাব পড়েছে রঙের ব্যবহারের ক্ষেত্রে। ‘রিস্যানসিটাইজ দ্য ব্রাউন ইমেজ’ কাজটি এরই প্রতিফলন। ভারতীয় বর্ণব্যবস্থায় মাটির মূর্তির রং এবং দক্ষিণ এশিয়ার নানা বাদামি শেডের মানুষকে উপস্থাপনের ঐতিহাসিক ধারা এই কাজে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। আধুনিক ভারতীয় চিত্রশিল্পী প্রভাকর বারওয়ের ‘দ্য ব্ল্যাঙ্ক ক্যানভাস’ বইটি সুরভীকে প্রভাবিত করেছে বলে প্রদর্শনীর ক্যাটালগটিতে উল্লেখ আছে।
‘হোয়্যার এভরি লিফ হোল্ডস আ টেল’ সিরিজে রয়েছে পাতার রূপক হিসেবে সুন্দরবনের আটটি চর। সেখানে এই দ্বীপগুলো (চন্দ্রেশ্বর, কালীর চর, হযবরল, ডিমের চর, বাণীশান্তা, ধইঞ্চাবাড়িয়া চর, শ্যামনগর ও টাইগার লেগ) প্রতিটিই নানা গল্পকে ধারণ করে। এখানে প্রকৃতি শুধু পটভূমি হিসেবে নয়, বরং একটি সক্রিয় চরিত্র হিসেবেই হাজির থাকে। সুন্দরবন কীভাবে উপকূলের রক্ষক হয়ে থাকে, প্রাণ বাঁচায় তা আমরা বিভিন্ন সময়ে টের পেয়েছি। জোয়ার–ভাটাকেন্দ্রিক বাস্তুতন্ত্র, শ্বাসমূল, জালের মতো বিছিয়ে থাকা খাল—সব মিলিয়ে এই যে সুন্দরবন, তা কার্বন শোষণ করে, সাইক্লোন থেকে আমাদের বাঁচায়। আবার জেলে–মৌয়ালিদের জীবন-জীবিকারও অবলম্বন এই বন।
তবু সুন্দরবনের প্রতি আমাদের অত্যাচারের শেষ নেই। আমাদের দায়দায়িত্বহীনতা আর অতি লোভে নষ্ট হচ্ছে সেখানকার প্রাণবৈচিত্র্য, দূষিত হচ্ছে নদী ও খাল। আশপাশে গড়ে ওঠা কলকারখানার বর্জ্য বা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা পোড়ানো পরিবেশকে করছে বিষাক্ত। সুন্দরবনের এই দশা প্রকৃতির প্রতি গভীর মমত্ব থাকা একজন শিল্পীকে কতটা স্পর্শ করে, তা আমরা অনুমান করতে পারি।
.‘হয়ার এভরি লিফ হোল্ডস আ টেল’ সিরিজে সুরভী দ্বীপগুলোকে দেখেছেন পাখির চোখে। আটটি দ্বীপ ধরে তিনি বলেছেন অসংখ্য গল্প। এ জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন স্থানীয় ও প্রচলিত নানা কাহিনি, সামাজিক আচার, সংস্কার-কুসংস্কার, প্রাণী, প্রাণী-মানুষের সম্পর্ক, মানুষ ও তার জীবন-জীবিকা, জন্মের গল্প, ভাঙনের গল্প, বাণিজ্যের গল্প, মানুষের লোভের গল্প, বৈষম্যের গল্প।
ঘাসফড়িংয়ের ডিম পাড়া, বাঘের মুখে মাছ বা গলায় কাঁটা আটকে যাওয়া, গাছ থেকে পাকা ফল পড়ে খাওয়া, উপড়ে যাওয়া গাছ, বাঘের আক্রমণ থেকে বাঁচতে পেছন দিকে মুখোশ পরা, বনবিবি, দুর্গা ও কালীর শক্তি, প্রকৃতির আত্মা যক্ষী, কারও নজর থেকে বাঁচতে দেওয়া কালো টিপ, চিলে কান নেওয়ার কাহিনি, পড়ে যাওয়া পাখি ও রক্তাক্ত ডিমের অবভাস, গর্ভবতী নারী বা তার নাভি থেকে বের হওয়া শ্বাসমূল, সুন্দরবন ঘিরে পর্যটন, চিংড়ি চাষ, উদ্বিড়াল দিয়ে মাছ ধরা—এসব কাহিনি আপাতভাবে খুবই সরল; কিন্তু চূড়ান্ত বিচারে তা গভীর ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিটি পাতারূপী চরে কাহিনিগুলো অনেকটা উপমহাদেশের মিনিয়েচার চিত্রকলার আদলে সূক্ষ্ম বিবরণে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
‘শি ক্যারিজ দ্য রিভার ইন হার স্কিন’ ৩০ ফুট লম্বা এক রেখাচিত্র। গ্যালারির দেয়ালে আঁকা স্থান- নির্দিষ্ট স্বল্পায়ুর এই শিল্পকর্ম তিনি করেছেন দুটি দেয়ালজুড়ে। প্রদর্শনী শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সৃষ্টির ‘শারীরিক মৃত্যু’ ঘটবে। অথচ প্রায় ৬০ ফুট দীর্ঘ এবং ১০ ফুট উচ্চতার দেয়ালে এই কাজ করতে সুরভীর সময় লেগেছিল প্রায় ২৬ দিন। বিপন্ন প্রকৃতিতে সবচেয়ে বেশি বিপন্ন হয় সমাজের ক্ষমতাকাঠামোর সবচেয়ে নিচে থাকা জনগোষ্ঠী—নারী ও শিশু। জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শিকারও তারা।
.রেখাচিত্রটিতে আছে স্যাটেলাইট চিত্রের ঘূর্ণিঝড়ের ‘চোখ’–এর মতো একটি ঘূর্ণায়মাণ চক্র। পরস্পর যুক্ত পাঁচটি নৌকার সারি ঢেউয়ের মতো একটি ছন্দ তৈরি করেছে। এই নৌকাগুলো রেখাচিত্রের নানা গল্পে ভরা। দুই দেয়াল যেখানে এসে মিশেছে, সেখানে তিনি ভাগ টেনেছেন নারী ও পুরুষের ফিগারকে। আছে সুন্দরবনের সেই বাঘবিধবাদের গল্প, যাঁরা সমাজে নিন্দিত হন ‘স্বামীখেকো’ হিসেবে। প্রদর্শনীর ক্যাটালগ–সূত্রে আমরা জানতে পারি, প্রবীণ ভারতীয় শিল্পী নলিনী মালিনীর ‘ফ্রম টাইম টু টাইম’ ছবির প্রভাবে এ কাজটি করেছেন তিনি। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমস্যাগুলোকে তিনি সাধারণত নারীর অবস্থান থেকে তুলে ধরেন।
১০টি বৃত্তাকার চিত্রের সিরিজটির নাম ‘হু ক্যারিজ হুম’। মানুষ ও প্রাণীর সম্পর্কই সেখানে মূল বিষয়। কাছিম, মাছ, হাতি, হরিণ বা বাঘ—এসব প্রাণীর উপস্থিতি থাকলেও সিরিজটি কার্যত ঘোড়াকেন্দ্রিক। যুদ্ধ, যোগাযোগ, কৃষি ও সভ্যতা—মানুষের সঙ্গে নানাভাবে জড়িয়ে আছে ঘোড়া; কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে মানুষের কাছে প্রাণী তখন বা তত দিনই মূল্যবান, যত দিন এর প্রয়োজন থাকে। প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে তা হয়ে পড়ে অপাঙ্ক্তেয়।
‘বিটুইন দ্য সি অ্যান্ড স্কাই, হু হোল্ডস দ্য গ্রাউন্ড’ শিরোনামের ৩০ ফুট ১০ ইঞ্চি দীর্ঘ স্ক্রল চিত্রটি অনেকগুলো ভাগে ভাগ করা। এই বিশাল দৃশ্য–আখ্যানটি জলবায়ু–শরণার্থীদের গল্প বলে। গাছ, প্রাণী, পোকামাকড়, সুন্দরবন ও বনের বাস্তুসংস্থান, বনবিবি, পানি ও মাটি এগুলোই গল্পের চরিত্র; যেগুলো একটি অপরটির সঙ্গে জড়িয়ে–পেঁচিয়ে আছে এবং সবাই জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদের মুখোমুখি। জলবায়ু পরিবর্তন শুধু একটি প্রাকৃতিক বিষয় বা পরিবর্তন নয়। এখানে মানুষের দায়টিই সবচেয়ে বড়।
.প্রদর্শনীটি কিউরেট করেছেন অ্যাশমোলিয়ান মিউজিয়ামের ইস্টার্ন আর্ট বিভাগের প্রধান ও সাউথ এশিয়ান আর্ট বিভাগের কিউরেটর অধ্যাপক মল্লিকা কুম্বেরা ল্যান্ড্রাস। এত বড় একটি আয়োজনে সহযোগিতা করেছেন, সেহার ও তাইমুর হাসান, ব্রিটিশ কাউন্সিল, সামদানি আর্ট ফাউন্ডেশন, সদাবি’স, নেহা অ্যান্ড সুমেধ জয়সাল ভায়া গোল্ডম্যান স্যাকস গিভস, চার্লস ওয়ালেস বাংলাদেশ ট্রাস্ট এবং গ্যালারি এসপাস (নতুন দিল্লি)।.গত ২৮ মার্চ শুরু হওয়া এই প্রদর্শনী চলবে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।
প্রদর্শনীতে সুরভী জান্নাতের আঁকা ২২টি কাজের পাশাপাশি প্রদর্শিত হচ্ছে আরও ২৮টি শিল্পকর্ম। অ্যাশমোলিয়ান মিউজিয়ামের অসংখ্য শিল্পকর্ম তাঁর শিল্পভাবনা ও চর্চাকে প্রভাবিত করেছে। সেখান থেকে এ ২৮টি শিল্পকর্ম বাছাই করা হয়েছে। সুরভীর নতুন বা সমসাময়িক কাজের সঙ্গে এই ঐতিহাসিক সংগ্রহগুলো প্রদর্শিত হওয়ায় অতীত ও বর্তমানের মধ্যে একটি সংযোগের সুযোগ তৈরি হয়। সুরভী যেসব ঐতিহাসিক সৃষ্টি থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছেন, সেগুলো পাশাপাশি থাকায় তিনি ইতিহাসকে কীভাবে বর্তমানে হাজির করেছেন, তা দর্শকেরা মিলিয়ে দেখতে পারেন।
প্রদর্শনীটি কিউরেট করেছেন অ্যাশমোলিয়ান মিউজিয়ামের ইস্টার্ন আর্ট বিভাগের প্রধান ও সাউথ এশিয়ান আর্ট বিভাগের কিউরেটর অধ্যাপক মল্লিকা কুম্বেরা ল্যান্ড্রাস। এত বড় একটি আয়োজনে সহযোগিতা করেছেন, সেহার ও তাইমুর হাসান, ব্রিটিশ কাউন্সিল, সামদানি আর্ট ফাউন্ডেশন, সদাবি’স, নেহা অ্যান্ড সুমেধ জয়সাল ভায়া গোল্ডম্যান স্যাকস গিভস, চার্লস ওয়ালেস বাংলাদেশ ট্রাস্ট এবং গ্যালারি এসপাস (নতুন দিল্লি)।
গত ২৮ মার্চ শুরু হওয়া এই প্রদর্শনী চলবে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।