সাত মাস বিলম্বের পর অবশেষে বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাপী মুক্তি পেয়েছে তামিল তারকা এবং বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘জন নায়গন’। এইচ বিনোথ পরিচালিত এই সিনেমাটি হতে যাচ্ছে অভিনেতা বিজয়ের ক্যারিয়ারের শেষ কাজ। মুক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দর্শকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে ছবি মুক্তির এই সময়েই অভিনেতার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের এক আবেগঘন স্মৃতি সামনে এনেছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু অভিনেতা সঞ্জীব।
সম্প্রতি বিহাইন্ডউডসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সঞ্জীব জানান, ১৯৯২ সালে মুক্তি পাওয়া অভিষেক সিনেমা ‘নালাইয়া থিরপু’র কড়া সমালোচনা বিজয়কে ভীষণভাবে আঘাত করেছিল। এস এ চন্দ্রশেখর পরিচালিত ওই সিনেমাটিতে বিজয়ের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন কীর্তনা, ঈশ্বরী রাও ও শ্রীবিদ্যা।
সেই সময়ের কথা স্মরণ করে সঞ্জীব বলেন, ‘বিজয় কেঁদেছিল, অনেক কেঁদেছিল। সে আসলে সারা রাত কেঁদেছিল। কোনো নবাগত অভিনেতাই প্রথম সিনেমার পর এমন কড়া মন্তব্য শুনতে চায় না, বিশেষ করে যখন তা আসে একটি প্রভাবশালী ম্যাগাজিনের কাছ থেকে।’
সঞ্জীব আরও জানান, তখন বিজয়ের বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর। চলচ্চিত্রজগতে নিজের অবস্থান তৈরির লড়াইয়ে থাকা সেই তরুণ অভিনেতার জন্য নেতিবাচক মন্তব্য মেনে নেওয়া ছিল অত্যন্ত কঠিন। এই প্রসঙ্গে সঞ্জীব বলেন, ‘ওই বয়সে এমন পরিস্থিতিতে যে কেউ হতাশ হয়ে পড়বে। আজকের বিজয় হলে হয়তো আরও ভালোভাবে পরিস্থিতি সামলাতে পারত।’
তবে সময়ের সাথে সাথে নিজের অভিনয় দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রম দিয়ে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করেছেন বিজয়, যা তাঁকে তামিল সিনেমার অন্যতম শীর্ষ তারকায় পরিণত করেছে। এই সাফল্যের কথা উল্লেখ করে সঞ্জীব বলেন, ‘পরে সেই একই ম্যাগাজিন বিজয়ের অনুমতি নিয়ে তাদের প্রচ্ছদের জন্য তাঁর ছবি প্রকাশ করতে চেয়েছিল। এটা কি বড় অর্জন নয়?’
এদিকে ‘জন নায়গন’ সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকের মতে, পর্দায় বিজয়ের উপস্থিতি আগের মতোই আকর্ষণীয় এবং অনিরুদ্ধ রবিচন্দরের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ও আবেগময় দৃশ্যগুলো প্রশংসার দাবি রাখে। তবে কিছু দর্শক মনে করছেন, গল্পের পরিচিত ধাঁচ এবং প্রায় তিন ঘণ্টার দীর্ঘ দৈর্ঘ্য ছবির গতি কমিয়ে দিয়েছে।