জুলাই সনদ নিয়ে বর্তমান সরকারের অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ বলেছেন, সরকারের এই অবস্থান অনভিপ্রেত এবং জাতির জন্য শুভ নয়।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর দ্য ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে (আইইবি) আয়োজিত এক স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন ন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ (এনইএবি) ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ, বিশেষত শহীদ প্রকৌশলীদের স্মরণে’ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে মারদিয়া মমতাজ বলেন, ‘ছাব্বিশে যে সরকারটি এল, তাদের কাছে আশাহত হওয়ার বিষয়টা আমাদের কল্পনাতেই ছিল না। জুলাই সনদ নিয়ে কোনো দ্বিরুক্তি সহ্য করতে আমরা প্রস্তুত ছিলাম না।’

অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হলে তার বিরোধিতা করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, ‘এক মিনিট নীরবতার এই রিচ্যুয়ালকে (রীতি) আমার কাছে একটা প্রয়োজনহীন কাজ মনে হয়। কারণ, আমরা একটা দীর্ঘ সময় চুপই থেকেছি। কথা বলার যে সংস্কৃতিকে আমরা চব্বিশ থেকে ধারণ করা শুরু করেছি, সেটা আমরা ধরে রাখব। আমরা নীরবতা পালন করতে চাই না। নীরবতা ফ্যাসিস্টের ভাষা। ফলে আমরা কথা বলব।’

সরকারি দল বিএনপির সংসদ সদস্যদের লক্ষ্য করে তিনি বলেন, ‘এখানে আমরা এমন কিছু মানুষকে পাই, যাঁরা হ্যাঁ ভোট দিচ্ছেন চিফ হুইপের হাত দেখে। দল যেভাবে দিতে বলছে, সেভাবে দিচ্ছে; দল যেভাবে না করছে, সেখানে না দিচ্ছেন। কিচ্ছু বোঝেন না।’

সংসদ সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ বলেন, ‘আমাদের জন্য এটা চরম অবমাননাকর যে আমাদের জন্য যাঁরা আইন বানান, সেই জায়গাটাতে যাওয়ার জন্য কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগে না। আবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার ন্যূনতম যোগ্যতা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। তাহলে সংসদ?’

সংসদের কার্যপদ্ধতি ও বিল পাসের প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এখানে যখন আমরা বিরোধী দল হিসেবে প্রশ্ন করি যে একটা বিল পাস হওয়ার ২০ মিনিট আগে আমার টেবিলে এল, আমি এটাকে দেখে কী বুঝব—তখন এই প্রশ্নটাকে সরকারি দলের কাছে হাস্যকর মনে হবে। আপনারা যদি বর্তমান সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের শেষ দিনের প্রসিডিংও দেখেন, আপনাদের কাছে অবাক লাগবে। আপনাদের মনে হবে যে এরা এত কথা বলে কেন, বিরোধী কথা বলে কেন; হ্যাঁ বলে দিলেই হয়, না বলে দিলেই হয়। কিন্তু আমাদের কথা হচ্ছে, বিলটা ভালো কি মন্দ, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এটা সঠিক প্রসিজার (প্রক্রিয়া) অনুসরণ করে আমার টেবিলে আসবে।’

এনইএবির এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক ও আইইবি ফেলো মাহমুদুর রহমান এবং প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এনইএবি আহ্বায়ক মো. আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সংসদ সদস্য আতিক মোজাহিদ ও কুয়েটের সাবেক উপাচার্য মাকসুদ হেলালীসহ অন্যান্যরা।