সুখরঞ্জন বালিকে অপহরণ, গুম এবং নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. ফজলুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। আজ বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেওয়া হয়।
এর আগে গত ২ জুলাই রাজধানীর বাড্ডায় অবস্থিত নিজ বাসা থেকে পুলিশ ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে।
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম মুক্তকণ্ঠকে জানান, "সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ফজলুর রহমানের তত্ত্বাবধানে সুখরঞ্জন বালিকে অপহরণ করা হয়েছিল।"
তিনি আরও জানান, অপহরণের এই মামলায় ফজলুর রহমানকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে ট্রাইব্যুনাল ছুটিতে থাকায় তাঁকে তখন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। পরবর্তীতে প্রসিকিউশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালে জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে এসে সুখরঞ্জন বালি ‘নিখোঁজ’ হন। পরবর্তীতে তিনি ভারতে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান।
গত বছরের ২১ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে পিরোজপুরের সুখরঞ্জন বালি গুম, অপহরণ ও নির্যাতনের পাশাপাশি প্রায় পাঁচ বছর ভারতে অবৈধভাবে কারাবন্দী করে রাখার অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগে তিনি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহাসহ মোট ৩২ জনের নাম উল্লেখ করেন।