কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদ বিভক্তি ও সীমানা নির্ধারণসংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৯ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের বিভক্তি ও সীমানা নির্ধারণ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত নিতে পরিষদ হলরুমে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ২০০ মানুষ অংশ নেন। কোরআন তিলাওয়াত শেষে হঠাৎ ৬০ থেকে ৭০ জনের একটি দল ব্যানার, ফেস্টুন ও লাঠিসোঁটা নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে পরিষদ কার্যালয়ে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে উপস্থিত লোকজনের ওপর হামলা চালায় এবং ইউনিয়ন পরিষদের দরজা, জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।

হামলাকারীদের সে সময় ‘ইউনিয়ন বিভক্তি মানব না, ওয়ার্ড বিভক্তি মানব না’ বলে স্লোগান দিতে দেখা যায়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড বিভক্তি হলে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, হোল্ডিং নম্বরসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক নথি পরিবর্তনে চরম জটিলতা সৃষ্টি হবে। তাই তারা ইউনিয়ন অবিভক্ত রাখার দাবি জানান।

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল চৌধুরী বলেন, বৈঠক চলাকালে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে হামলা চালায়। এতে আমিসহ কয়েকজন আহত হই। হামলাকারীরা পরিষদের বিভিন্ন কক্ষের দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে। ঘটনাটি পরিকল্পিত বলে দাবি করেন তিনি।

সীমানা নির্ধারণ কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. তাহের বলেন, পরিস্থিতি হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হামলাকারীরা পরিষদে ঢুকে ভাঙচুরের পাশাপাশি উপস্থিত ব্যক্তিদের মারধর করে। এতে অন্তত ৯ থেকে ১০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আমি ও অন্য কর্মকর্তারা পাশের একটি দরজা দিয়ে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিই। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে জানান তিনি।

উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব জুনাইদ আলী চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্যের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত করতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছেন। হামলায় যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহদাত হোসাইন জানান, ঘটনার পর প্রায় তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে সড়ক অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সীমানা নির্ধারণ ইস্যুকে কেন্দ্র করে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।