পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘জামা'আত নুসরাত আল-ইসলাম’ (জেএনআইএম)-এর বিরুদ্ধে অভিযানটি চালানো হবে। তবে এ প্রস্তাব নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে মতবিরোধ রয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) এ সম্পর্কে অবগত বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট। ২০১৮ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মালির এই জেএনআইএম গোষ্ঠীকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জেএনআইএম-এর বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার এই প্রস্তাবটি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি নির্ধারকদের মধ্যে স্পষ্ট মতবিরোধ ও বিভাজন তৈরি হয়েছে।
তবে সামরিক হামলার পক্ষে যারা জোরালো মত দিয়েছেন, তাদের মধ্যে হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (এনএসসি) সন্ত্রাসবিরোধী বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর সেবাস্তিয়ান গোর্কা অন্যতম।
প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সম্ভাব্য মার্কিন হামলার অনুমোদন দেওয়া বা খারিজ করার বিষয়টি নিশ্চিত কিংবা অস্বীকার করেননি।
তিনি জানান, উত্তর ও পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলো যেন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নিজেদের যুদ্ধ জোরদার করতে ‘মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও সেবা ক্রয় করে’, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বারবার সেই আহ্বান জানানো হচ্ছে।
সেন্ট্রাল সাহেল অঞ্চলের চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদকে একটি ‘বহুজাতিক সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করে ওই মার্কিন কর্মকর্তা আরও বলেন, “আমরা আঞ্চলিক অংশীদার ও ন্যাটো মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, যেন তারা জেএনআইএম এবং আইএসআইএস (দায়েশ)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ‘সাহেল রাষ্ট্রসমূহের জোটকে’ প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে।”
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ক্রমাগত অবনতির জন্য রাশিয়াকে সরাসরি দায়ী করেছেন ওই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, আফ্রিকায় রাশিয়ার উপস্থিতি মালির জন্য সম্পূর্ণ একটি অকার্যকর নিরাপত্তা চুক্তি হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করি অন্যান্য আফ্রিকান দেশগুলো সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় রাশিয়ার এই চরম ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বিষয়ে প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘মালিতে ঘটে চলা যে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানায়’।