চাঁপাইনবাবগঞ্জের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা মালিক ও চালকদের স্বেচ্ছাচারিতায় অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। বাজারে এলপিজি গ্যাসের দাম সামান্য বাড়লেই সঙ্গে সঙ্গে বাড়িয়ে দেওয়া হয় ভাড়া। অথচ পরবর্তীতে গ্যাসের দাম কমলেও সেই বাড়তি ভাড়া কমানোর কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিক কোনো তদারকি না থাকায় একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে যাত্রীদের পকেট কাটছে এই পরিবহন সিন্ডিকেট।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা শহর থেকে বিভিন্ন উপজেলায় যাতায়াতের দ্রুততম বাহন হিসেবে এখন বড় ভরসা সিএনজি অটোরিকশা। অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার সুযোগে চালকরা পুরো পরিবহন ব্যবস্থায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছেন। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে চড়া ভাড়াতেই যাতায়াত করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বর্তমানে শিবগঞ্জ থেকে কানসাটে ৭০ টাকা, শিবগঞ্জ থেকে জেলা সদরে ৬০ টাকা, রহনপুর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১০০ টাকা এবং ভোলাহাট থেকে কানসাটে ১০০ থেকে ১১০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
সম্প্রতি বাজারে এলপিজি গ্যাসের দাম লিটারপ্রতি প্রায় সাত টাকার মতো বাড়লে রুটভেদে ভাড়া ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয় সিএনজি মালিক সমিতি। কিন্তু পরবর্তীতে গ্যাসের দাম লিটারে প্রায় ১৫ টাকা কমলেও ভাড়ার হার আগের মতোই রয়ে যায়।
এ ছাড়া উৎসব বা ছুটির সময় চালকদের বেপরোয়া আচরণ আরও বেড়ে যায়। তখন বকশিসের নামে অতিরিক্ত ১০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এমনকি দূরপাল্লার বাস থেকে নামা যাত্রীদের মালামাল দেখে ইচ্ছেমতো ভাড়া হাঁকানো হয়। এই অনিয়ম ও মনগড়া ভাড়া আদায় নিয়ে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র ক্ষোভের প্রকাশ ঘটছে।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ সিএনজি সমিতির মাস্টার তৌহিদুল ইসলাম জানান, এলাকায় সিএনজির দুটি সমিতি রয়েছে। তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা থাকলেও এখনও চূড়ান্ত কোনো বৈঠক হয়নি। অন্যান্য যন্ত্রাংশের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি মাথায় রেখে আলোচনার মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে সমিতির এই উদ্যোগহীনতা ও দোহাইকে মালিকপক্ষের চরম গাফিলতি ও টালবাহানা বলেই মনে করছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সার্কেলের বিআরটিএ-এর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. শাহজামান হক জানান, সড়কে চলাচলকারী এসব সিএনজির অধিকাংশেরই বৈধ কাগজপত্র নেই। অবৈধ যান হওয়ায় বিআরটিএ সরাসরি এদের জন্য সুনির্দিষ্ট ভাড়া নির্ধারণ করে দিতে পারছে না। তবে কাগজপত্র ছাড়া এসব যান চলাচল করা এবং যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা—দুটোই আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
এদিকে সিএনজি অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত দাপট ও মূল সড়কে অবৈধ স্ট্যান্ড গড়ে তোলার কারণে জেলা শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। স্বরূপনগরে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক বাস টার্মিনালটি অকার্যকর পড়ে থাকলেও শহরের ব্যস্ততম মোড়গুলোতে সিএনজি পার্কিংয়ের ফলে প্রতিনিয়ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের (শহর ও যানবাহন) পুলিশ পরিদর্শক মো. সফিকুল আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।