যশোরে ঘরে ঢুকে হামলা ও পুত্রবধূকে ধর্ষণচেষ্টাকালে শাশুড়ির দায়ের কোপে হত্যাসহ ১৪টি মামলার আসামি শরিফুল ইসলাম জিতু নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার (২২ জুলাই) রাত ১১টার দিকে শহরের বারান্দীপাড়া ফুলতলা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত জিতু ওই এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
এ সময় জিতুর ছরিকাঘাতে একই পরিবারের দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন পূর্ব বারান্দী মাঠপাড়া এলাকার লাল মিয়ার স্ত্রী শুকরান বেগম এবং তার ছেলে সুমন হোসেন। তারা বর্তমানে যশোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শুকরান বেগম বলেন, বুধবার রাতে জিতু তাদের বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে সুমনের কাছে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় জিতু ক্ষিপ্ত হয়ে সুমনকে মারধর করেন এবং চাকু দিয়ে মুখের বাম পাশ জখম করেন। ছেলেকে বাঁচাতে শুকরান বেগম এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে আহত করেন জিতু।
একপর্যায়ে জিতু ঘরের ভেতরে সুমনের স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় পুত্রবধূকে রক্ষা ও নিজেদের জীবন বাঁচাতে শুকরান বেগম ঘরে থাকা দা দিয়ে জিতুকে কুপিয়ে জখম করেন।
পরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ৯৯৯ ফোন দিলে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় জিতুকে উদ্ধার করে যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। ঢাকা নেওয়ার পথে জিতুর মৃত্যু হয়।
যশোর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহ বলেন, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে নড়াইলের কালনা সেতু এলাকায় জিতুর মৃত্যু হয়। পরে স্বজনরা তার মরদেহ যশোর সদর হাসপাতালে ফিরিয়ে আনলে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়। অন্যদিকে চিকিৎসাধীন মা ও ছেলের শরীরে বেশ কয়েকটি সেলাই ও অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়েছে।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুম খান বলেন, নিহত জিতুর বিরুদ্ধে থানায় একাধিক হত্যাসহ বেশ কয়েকটি গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে। ঠিক কী কারণে এ ঘটনার সূত্রপাত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।