বিশ্বকাপ জয়ের পর দেশে ফিরে রাজকীয় সংবর্ধনা পেয়েছেন স্পেনের ফুটবলাররা। তবে মিডফিল্ডার গাভি ও ফাবিয়ান রুইজের সংবর্ধনা ছিল একেবারেই ব্যতিক্রমী। ফুলের তোড়া বা সোনার পদকের বদলে তাঁদের উপহার দেওয়া হয়েছে নিজেদের শরীরের ওজনের সমান টমেটো।

রাজধানী মাদ্রিদে লাখো মানুষের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষ করে নিজ নিজ শহরে ফেরেন বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দলের খেলোয়াড়েরা। আন্দালুসিয়ার ছোট শহর লস পালাসিওস ই ভিয়াফ্রাঙ্কা তাঁদের দুই গর্বিত সন্তান গাভি ও রুইজকে বরণ করে নিয়েছে শহরের প্রধান প্রতীক টমেটো দিয়ে।

সিটি কাউন্সিলের আয়োজনে প্রথমে দুই ফুটবলারকে ওজন মাপার যন্ত্রে দাঁড় করানো হয়। এরপর তাঁদের শরীরের ওজনের সমান পরিমাণ টমেটো হাতে তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী, দুই খেলোয়াড় মিলিয়ে প্রায় ১৪০ কেজি টমেটো পেয়েছেন।

কেবল টমেটো উপহার দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। শহরের দুটি ফুটবল স্টেডিয়ামের নাম বদলে তাঁদের নামে করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মারিসমাস স্টেডিয়ামের নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘ফাবিয়ান রুইজ’ এবং সান সেবাস্তিয়ান স্টেডিয়ামের নাম করা হয়েছে ‘পাবলো পায়েস গাভিরা (গাভি)’। উল্লেখ্য, এই দুই মাঠেই শৈশবে ফুটবলের হাতেখড়ি হয়েছিল তাঁদের।

লস পালাসিওস ই ভিয়াফ্রাঙ্কার জন্য এটি নতুন কোনো প্রথা নয়। ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য হেসুস নাভাসও এই শহরের সন্তান। তাঁকেও একসময় শরীরের ওজনের সমান টমেটো উপহার দেওয়া হয়েছিল। সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রুইজ ও গাভির নামে স্টেডিয়ামের পাশাপাশি নাভাসের নামে শহরে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে।

স্পেনের অন্যতম প্রধান টমেটো উৎপাদনকারী এলাকা লস পালাসিওস ই ভিয়াফ্রাঙ্কা। এখানকার ‘বোম্বোন কোলোরাও’ জাতের টমেটো স্থানীয় পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই শহরের সর্বোচ্চ অর্জনকারীদের সম্মান জানাতে এই টমেটোকেই প্রতীকী উপহার হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। এটি বিখ্যাত লা টোমাটিনা উৎসবের মতো টমেটো ছোড়াছুড়ির আয়োজন নয়, বরং কৃষিভিত্তিক ঐতিহ্য ও স্থানীয় পরিচয় উদযাপনের একটি স্বতন্ত্র রীতি।