রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের মাহদীনগরে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ডাকাতির রহস্য উদ্ঘাটন করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। একই ভবনের এক গৃহবধূর প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে পুরো ডাকাতির ছক আঁকা ও বাস্তবায়ন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে লুণ্ঠিত ২ লাখ ২০ হাজার টাকা ও বিভিন্ন স্বর্ণালঙ্কার।
বুধবার (২২ জুলাই) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান।
তিনি জানান, গত ১৮ জুলাই কামরাঙ্গীরচর থানার মাহদীনগর এলাকায় একটি বহুতল ভবনের পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাটে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। বাসা ভাড়া নেওয়ার অজুহাতে পাঁচজন ব্যক্তি ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে ভেতরে থাকা তিন নারীকে হাত-পা বেঁধে মারধর করে। এরপর তারা বাসা থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা, ৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ৪টি মোবাইল ফোন লুট করে পালিয়ে যায়।
উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, ঘটনার পরপরই কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিবাগত রাতে মুসলিমবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে সজীব আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় রিপন মিয়াকে। রিপনের বাসা থেকে লুণ্ঠিত ১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে চাঁদ মসজিদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফারুক খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার ভাড়া বাসা থেকে আরও ১ লাখ টাকা এবং ডাকাতি হওয়া বেশ কিছু স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে ডিসি তালেবুর রহমান জানান, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই ভবনের সপ্তম তলার বাসিন্দা জিয়াসমিন ওরফে জেসমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে লুণ্ঠিত ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। তদন্তে স্পষ্ট হয়, জেসমিনই এই পুরো ঘটনার মূল মাস্টারমাইন্ড।
ঘটনার নেপথ্যের বর্ণনা দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, জেসমিনের সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। সেই সুবাদে ওই বাসায় বিপুল নগদ অর্থ ও মূল্যবান অলঙ্কার থাকার বিষয়টি তিনি জানতেন। লোভের বশবর্তী হয়ে পরিচিত কয়েকজনকে নিয়ে তিনি এই ডাকাতির পরিকল্পনা করেন। ঘটনার দিন তিনি নিজেই ডাকাত দলের সদস্যদের ভবনে প্রবেশে সহায়তা করেন এবং ডাকাতি শেষে নিরাপদে বেরিয়ে যেতে পথ সুগম করে দেন।
ডিএমপির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ঘটনা ঘটিয়ে জেসমিন আবার কৌশলে ভুক্তভোগীদের বাসায় যান, তাদের সান্ত্বনা দেন এবং নিজের সম্পৃক্ততা আড়াল করতে মামলার সাক্ষী হিসেবেও নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন। তবে নিবিড় তদন্তে তার থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে এবং অপরাধের তথ্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।’
তিনি জানান, এই চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনায় মোট ৮ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। পলাতক বাকি চার আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সহিংস এই ঘটনার দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটন ও লুণ্ঠিত মালামালের একটি অংশ উদ্ধার করাকে পুলিশের বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বাকীদেরও খুব দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।