গোপালগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে বিচারকের ছুড়ে মারা পেপারওয়েটের আঘাতে সাবিহা সুলতানা নামে এক শিক্ষানবিশ আইনজীবী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ২ নম্বর আদালতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালতপাড়ায় আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিচার কার্যক্রম চলাকালে এজলাসে উপস্থিত কয়েকজন বিচারপ্রার্থী নিজেদের মধ্যে নিচু স্বরে কথা বলছিলেন। এ সময় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুজন মিয়া তাদের চুপ থাকার নির্দেশ দেন। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে বিচারক ক্ষুব্ধ হয়ে এজলাসের টেবিলে থাকা একটি পেপারওয়েট ছুড়ে মারেন। সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পাশে বসে থাকা শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাবিহা সুলতানার মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হলে সহকর্মীরা তাকে তাৎক্ষণিক উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাবিহা সুলতানা বলেন, আমি এজলাসে বসে মামলার নথিপত্র দেখছিলাম। হঠাৎ একটি পেপারওয়েট এসে আমার মাথায় আঘাত করে। পরে জানতে পারি, বিচারক পেপারওয়েটটি ছুড়ে মেরেছিলেন। তবে সেটি আমাকে লক্ষ্য করে নাকি অন্য কারও উদ্দেশ্যে ছোড়া হয়েছিল, তা নিশ্চিত নই।
ঘঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষানবিশ আইনজীবী সানজিদা ইসলাম, বিচারক কয়েকজন বিচারপ্রার্থীর ওপর রাগান্বিত হয়ে পেপারওয়েটটি ছুড়ে মারেন। সেটি তাদের গায়ে না লেগে আমাদের সহকর্মী সাবিহার মাথায় লাগে। একজন বিচারকের কাছ থেকে এমন অসৌজন্যমূলক আচরণ আমরা আশা করি না।
আইনজীবী সোহাগ বলেন, গোপালগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই ওই বিচারকের আচরণ নিয়ে আইনজীবীদের অসন্তোষ ছিল। বিচারক নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে বিচারপ্রার্থীদের আস্থা ক্ষুণ্ন হয়। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।
গোপালগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এম এ আলম সেলিম জানান, ঘটনাটি প্রধান বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করা হয়েছে। আইনজীবী সমিতিও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত বিচারক মো. সুজন মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।