চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার আম্মাকান্দা গ্রামে একটি মাইক্রোবাসের চাপায় খতেজা বেগম নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত খতেজা বেগমের বাড়ি উপজেলার খিদিরপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত মান্নান মৃধার স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খতেজা বেগমের স্বামী মান্নান মৃধা দিনমজুরের কাজ করতেন, যিনি গত বছরের আগস্টে অসুস্থ হয়ে মারা যান। সংসারের হাল ধরতে ধারকর্জ করে দুই মাস আগে একমাত্র ছেলে মো. নাঈমকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন খতেজা। সম্প্রতি নাঈম সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লে, তাঁর সহকর্মী সোবহানের মাধ্যমে কিছু ওষুধ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন খতেজা। সোবহানের বাড়ি উপজেলার তাতুয়া গ্রামে এবং তিনি ছুটিতে দেশে এসেছেন। দুয়েক দিনের মধ্যে তাঁর সৌদি আরবে ফেরার কথা থাকায় খতেজা বেগম তাঁর বাড়িতে ওষুধ পৌঁছে দিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হন।
সন্ধ্যায় বাড়ির কাছাকাছি আম্মাকান্দা এলাকায় সড়কের পাশ দিয়ে হাঁটার সময় একটি মাইক্রোবাস (হাইস) তাঁকে পেছন থেকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে খতেজার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ থেঁতলে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজন ও এলাকাবাসী তাঁকে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত খতেজা বেগমের জামাতা মনসুর হাজী বলেন, "তাঁর শ্বশুর মারা যাওয়ার ১১ মাস পর শাশুড়িও মারা গেলেন। অনেক আশা নিয়ে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন তাঁর শাশুড়ি। বেপরোয়া গাড়ি তাঁকেও চাপা দিয়ে মেরে ফেলল। এটি হত্যাকাণ্ডের মতোই। অসহায় পরিবারটি এখন গভীর সমুদ্রে পড়ে গেল। ছেলের জন্য ওষুধ পাঠাতে গিয়ে নিজেই লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলেন। এ মৃত্যু মেনে নেওয়া কষ্টকর।"
আজ বুধবার সকাল ১০টায় পারিবারিক কবরস্থানে খতেজার লাশ দাফন করা হয়েছে। এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন চন্দ্র দাস বলেন, "এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা হয়নি। কেউ অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"