রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা অস্ত্র আইনের মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আদালত আগামী ২৩ আগস্ট এই শুনানির নতুন দিন ধার্য করেছেন।

বুধবার ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মঈন উদ্দিন চৌধুরী আসামিপক্ষের সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে এই আদেশ প্রদান করেন। আনিসুল হকের আইনজীবী আসিফুর রহমান এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আইনজীবী আসিফুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "আদালত অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ২৩ আগস্ট নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন। ৫ আগস্টের পর আসামি আনিসুল হকের বাসা থেকে লাইসেন্স করা অস্ত্রটি লুট হয়ে যাওয়ায় আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সেটি সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।"

মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির লক্ষ্যে আজ বেলা দুইটার দিকে ঢাকা মহানগর হাজতখানা থেকে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তায় আনিসুল হককে আদালতে হাজির করা হয়। তাঁর পক্ষে আইনজীবী মো. সুমন হোসাইন সময় চেয়ে আবেদন জানান। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মামলায় নিয়োজিত জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি, তাই প্রস্তুতির জন্য আরও সময়ের প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আনিসুল হক বনানী থানার অধীন নিজ নামে লাইসেন্স করা একটি পিস্তলের মালিক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য দেওয়া সব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত করে এবং ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, আনিসুল হক ২০২৫ সালের ৫ মে পর্যন্ত তাঁর লাইসেন্স করা অস্ত্র থানায় জমা দেননি কিংবা থানাকে অবহিতও করেননি। এমনকি তাঁর ঠিকানায় গিয়েও অস্ত্র জমা দেওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনায় বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জানে আলম দুলাল অস্ত্র আইনে মামলা করেন। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে গত বছরের ২৯ আগস্ট একই থানার এসআই মো. ইয়াদুল হক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে আনিসুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বিভিন্ন হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে অবস্থান করছেন।