যশোরের কেশবপুর উপজেলার মজিদপুর পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাজ্জাত আলী (৪৮) ফেলে দেওয়া টিউবলাইটের কাচ দিয়ে তৈরি করছেন নান্দনিক সব শোপিস। কাচ গলিয়ে তিনি তৈরি করছেন বিশ্বকাপ ট্রফি, তাজমহল এবং ফুলদানির মতো বিভিন্ন শিল্পকর্ম। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে তাঁর তৈরি এসব পণ্য।

সাজ্জাত আলীর ছোট্ট ঘরটিই এখন তাঁর কারখানা। জীবিকার তাগিদে একসময় বিভিন্ন শহরে রিকশা চালিয়েছেন তিনি। পরবর্তীতে এক স্বজনের কাছ থেকে ভাঙা কাচ দিয়ে পণ্য তৈরির কৌশল শেখেন। রিকশা চালানো ছেড়ে দিয়ে গত প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি এই কাচের শিল্পকর্মের সাথে যুক্ত।

গত সোমবার সাজ্জাতের বাড়িতে গিয়ে এই প্রতিবেদক জানতে পারেন, তাঁর এই শিল্পকর্মের মূল উপকরণ হলো পুরোনো টিউবলাইট ও কেরোসিনের বাতি। বিভিন্ন কলকারখানা থেকে ১০ টাকা দরে পুরোনো টিউবলাইট সংগ্রহ করেন তিনি। কাচ গলাতে প্রতিদিন প্রায় দুই লিটার কেরোসিন প্রয়োজন হয়, যা বাবদ দৈনিক খরচ হয় প্রায় ৩০০ টাকা।

শিল্পকর্ম তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে সাজ্জাত বলেন, ‘আগে মনের মধ্যে ছবিটা এঁকে নিই। তারপর কাচ গলিয়ে তৈরি করি। এই ধরুন, আপনি সামনে চেয়ারে বসে আছেন, এটা দেখেই আমি কাচ দিয়ে বানিয়ে ফেলতে পারি।’

ক্রেতাদের চাহিদা ও অর্ডার অনুযায়ী বিভিন্ন পণ্য তৈরি করেন তিনি। পাইকারি দরে একটি বিশ্বকাপ ট্রফি বিক্রি করেন ১ হাজার ২০০ টাকায়। এছাড়া বক ৫০০ টাকা, লাভবার্ড ২৬০ টাকা এবং নাগরদোলা ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা আগে থেকে ফোন করে সময় নির্ধারণ করে তাঁর বাড়ি থেকে এসব পণ্য সংগ্রহ করেন।

সাজ্জাতের কাছ থেকে নিয়মিত পণ্য সংগ্রহ করেন যশোরের ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম। তিনি মুফোঠোনে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, সাজ্জাতের কাছ থেকে শোপিস নিয়ে দিনাজপুর, রংপুর, পাবনা, ঈশ্বরদী, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করেন। পণ্যের মান বেশ ভালো, টেকসই ও ত্রুটিমুক্ত হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে চাহিদা আছে।

কাচের শোপিস তৈরি করে সাজ্জাত আলী প্রতিদিন দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকা আয় করেন। টিউবলাইট, কেরোসিন, আঠা ও রঙের খরচ বাদ দিলে তাঁর দৈনিক লাভ থাকে ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। সরকারি সহায়তা পেলে এই কাজের পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব বলে তিনি জানান।

সাজ্জাতের তৈরি কাচের শিল্পকর্মের প্রসারে সরকারিভাবে তাঁকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন কেশবপুর উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির।