রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি), ট্রমা সেন্টার এবং ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবের কর্মী-কর্মকর্তারা বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং চাকরির রাজস্বকরণের দাবিতে কর্মবিরতিতে গিয়েছেন। জানা গেছে, গত সাত মাস ধরে তাঁদের কোনো বেতন-ভাতা প্রদান করা হচ্ছে না এবং অফিস পরিচালনার জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। দীর্ঘ এই সময় বেতনহীন থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
২০০২ সাল থেকে নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার অসহায় ভুক্তভোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা, আইনি সহায়তা, সনদ প্রদান এবং ট্রমা কাউন্সেলিং সেবা দিয়ে আসা এই স্পর্শকাতর ও জরুরি সেবাকেন্দ্রে এমন অচলাবস্থা তৈরি হওয়া চরম দায়িত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশ। নিপীড়নের শিকার নারী ও শিশুদের জন্য ওসিসি একটি প্রধান ভরসাস্থল। বাইরে ডিএনএ টেস্ট করাতে যেখানে প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়, ওসিসিতে ভুক্তভোগীরা তা বিনামূল্যে পান। এই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে অসহায় মানুষগুলো প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন।
অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষা বা মেডিক্যাল সার্টিফিকেটের সুযোগ না থাকলে ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে পড়বে। পাশাপাশি, দীর্ঘ সময় বেতন ছাড়াই সেবা প্রদানকারী কর্মীদের পরিবারগুলো যে মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগের।
প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়া কিংবা দাপ্তরিক জটিলতার অজুহাতে এই মৌলিক ও মানবিক সেবাকে বারবার বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। ২০১৬ সালেও প্রকল্প চলাকালীন কর্মীদের ৯ মাসের বেতন বকেয়া রাখা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে পরিশোধ করা হয়নি। আউটসোর্সিং নিয়োগপ্রক্রিয়ার জটিলতা এবং প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার মাশুল শেষ পর্যন্ত ভুক্তভোগী মানুষ ও খেটে খাওয়া কর্মীরাই দিচ্ছেন। হাসপাতালের পক্ষ থেকে ব্যাকআপ ব্যবস্থার কথা বলা হলেও তা স্থায়ী বা কার্যকর সমাধান হতে পারে না।
ওসিসির কার্যক্রম কেবল দাপ্তরিক রুটিন নয়, বরং এটি মানুষের জীবন ও ন্যায়বিচারের সাথে সরাসরি জড়িত। তাই উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধ করে কর্মীদের কর্মবিরতি অবসানে এবং ওসিসির পূর্ণাঙ্গ সেবা সচল করতে হবে। একই সঙ্গে, এই সেবাকে সাময়িক ‘প্রকল্প’ বা ‘আউটসোর্সিং’-এর জটিলতা থেকে মুক্ত করে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। শত শত অসহায় নারী ও শিশুর আইনি ও মানসিক সুরক্ষার স্বার্থে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এই অচলাবস্থার দ্রুত নিরসন কামনা করি।