নাটোর সদর উপজেলার বড় হরিশপুর ইউনিয়নের লালমনিপুর গ্রামের একমাত্র কাঁচা রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। বছরের পর বছর রাস্তাটির কোনো উন্নয়ন না হওয়ায় অবশেষে গ্রামের অর্ধশত তরুণ স্বেচ্ছাশ্রমে তা সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন। গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম আজ বুধবার পর্যন্ত চলবে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, রাস্তাটির মাঝখানে নারদ নদের ওপর একটি বাঁশের সেতু রয়েছে। বৃষ্টির সময় রাস্তাটি কাদায় পরিণত হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে, যার ফলে গ্রামবাসীদের হেঁটে জেলা শহরে যাতায়াত করতে হয়। বাসিন্দাদের অভিযোগ, "নির্বাচন এলেই প্রার্থীরা রাস্তাটি পাকা করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু পরে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয় না।"
দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি দূর করতে গত রোববার সন্ধ্যায় গ্রামের অর্ধশত তরুণ একত্রিত হয়ে রাস্তাটিতে ইট, বালু ও সুরকি ফেলে তা চলাচলের উপযোগী করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধ্যমতো চাঁদা সংগ্রহ করেন তারা। সংগৃহীত অর্থ দিয়ে পরদিন সকালে পাশের একটি ইটভাটা থেকে প্রয়োজনীয় উপকরণ কেনা হয়। এরপর প্রতিটি বাড়ি থেকে ডালি ও কোদাল নিয়ে সবাই মিলে রাস্তা সংস্কারের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
সারা দিন ধরে ইট ও বালু বিছানোর কাজ চলে। সন্ধ্যা পর্যন্ত রাস্তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সম্পন্ন করার পর তরুণেরা পুনরায় তহবিল সংগ্রহ করেন। গতকাল মঙ্গলবারও এই কাজ অব্যাহত ছিল এবং তাদের আশা, আজ সন্ধ্যার মধ্যেই পুরো সংস্কার কাজ শেষ হবে।
গতকাল সকালে লালমনিপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, একদল তরুণ কোদাল দিয়ে রাস্তার কাদা সরাচ্ছেন, অন্য দল বালু ফেলছে এবং বাকিরা ইট ও সুরকি বিছিয়ে দিচ্ছেন। কাজের ফাঁকে পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি একঘেয়েমি কাটাতে কেউ কেউ গানও গাইছিলেন।
এই উদ্যোগের সাথে যুক্ত জাহিদ মেহেদী বলেন, ‘মিথ্যা আশ্বাস ছাড়া আমরা কিছুই পাইনি। তাই অন্যের দিকে না তাকিয়ে আমরা নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে ইট-বালু-সুরকি কিনেছি। প্রতিটি বাড়ি থেকে তরুণেরা এসেছেন স্বেচ্ছাশ্রম দিতে। ফলে রাস্তাটি আপাতত চলাচলের উপযোগী হচ্ছে।’ পাশাপাশি তিনি নারদ নদের ওপর বাঁশের সেতুর পরিবর্তে একটি পাকা সেতু নির্মাণের জন্য প্রশাসনের উদ্যোগ কামনা করেন।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজাহার আলী বলেন, "সরকারের পক্ষ থেকেও ওই গ্রামের রাস্তা ও সেতু নির্মাণের বিষয়টি অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।"