বিশ্বকাপের ক্লাব বেনিফিটস প্রোগ্রামের (সিবিপি) আওতায় ফিফার কাছ থেকে আবারও সর্বোচ্চ আর্থিক অনুদান পেতে যাচ্ছে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। টানা তিন আসরে ফিফার এই তহবিল থেকে সবচেয়ে বেশি অর্থ আয় করতে যাচ্ছে সিটিজেনরা।

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই বিশ্বকাপের জন্য খেলোয়াড় সরবরাহকারী ক্লাবগুলোর জন্য রেকর্ড পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করেছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ২০১৮ রাশিয়া এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে এই বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ২০ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এবার সিবিপি তহবিলের পরিমাণ ৭০ শতাংশ বাড়িয়ে ৩৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার করা হয়েছে।

বরাদ্দকৃত এই ৩৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারের মধ্যে ২৫ কোটি ডলার বণ্টন করা হবে মূল পর্বে অংশ নেওয়া ৪৮টি দেশের খেলোয়াড়দের ক্লাবগুলোর মধ্যে। প্রথমবারের মতো বাছাইপর্বের জন্য আলাদা ১০ কোটি ডলার বরাদ্দ রেখেছে ফিফা। বাকি ৫০ লাখ ডলার রাখা হয়েছে প্রশাসনিক ব্যয় ও ফুটবলের সার্বিক উন্নয়নের তহবিলে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মে মাসের ২৫ তারিখ থেকে জাতীয় দলগুলোর বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য ক্লাবগুলো প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ হাজার ডলার করে পাবে। দ্য অ্যাথলেটিকের হিসাব অনুযায়ী, মূল পর্বের আয় থেকেই ম্যানচেস্টার সিটি আনুমানিক ৪৪ লাখ ডলার পাচ্ছে।

টুর্নামেন্টের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত ম্যানচেস্টার সিটির ছয়জন ফুটবলার মাঠে ছিলেন। মায়ামিতে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন রায়ান শেরকি, মার্ক গেহি, নিকো ও’রাইলি, জন স্টোনস ও জেমস ট্রাফোর্ড। এছাড়া রোববারের ফাইনালে স্পেনের ১-০ গোলে জয়ের ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন রদ্রি।

আয়ের তালিকায় সিটির পরেই রয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা, যারা চার বছর আগেও দ্বিতীয় স্থানে ছিল। ইংলিশ ক্লাবগুলোর মধ্যে আয়ের দিক থেকে সিটির নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আর্সেনাল। চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল খেলার কারণে আর্সেনালের ফুটবলাররা জাতীয় দলে কিছুটা দেরিতে যোগ দেওয়ায় আয়ে কিছুটা প্রভাব পড়লেও ক্লাবটি বড় অঙ্কের অর্থ পাচ্ছে। এছাড়া তালিকায় চমক দেখিয়েছে ক্রিস্টাল প্যালেস ও সান্ডারল্যান্ড। ১২ জন খেলোয়াড় বিশ্বকাপে পাঠানোর কারণে ক্রিস্টাল প্যালেস পাচ্ছে ২৭ লাখ ডলার এবং সান্ডারল্যান্ড পাবে ২২ লাখ ডলার।

বিশ্বকাপের সর্বমোট ১ হাজার ২৪৮ জন ফুটবলারের মধ্যে প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়াড় ছিলেন সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ। ফলে আয়ের দিক থেকেও এগিয়ে আছে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো। সিবিপি-র অধীনে ইংলিশ ক্লাবগুলো মোট ৩ কোটি ৪২ লাখ ডলার পাচ্ছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা জার্মানির বুন্দেসলিগার ক্লাবগুলো পাবে ১ কোটি ৮৮ লাখ ডলার।

তবে কোটি কোটি ডলার বার্ষিক বেতন দেওয়া ধনী ক্লাবগুলোর কাছে ফিফার এই অনুদান তুলনামূলকভাবে সামান্য। ২০২৪-২৫ মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটির খেলোয়াড়দের মোট বেতন ছিল প্রায় ৬০ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যার তুলনায় ৪৪ লাখ ডলারের এই আয় খুবই নগণ্য।