কক্সবাজারের পেকুয়ায় বিভিন্ন সরকারি খালে নির্মিত অবৈধ বাঁধ অপসারণে অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের এসব বাঁধের কারণে পানি চলাচল ব্যাহত হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধের কারণে কৃষি ও মৎস্য খাতে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মগনামা ইউনিয়নের মটকাভাঙা খাল থেকে বাঁধ অপসারণ অভিযান শুরু হয়। প্রথম দিনে মোট ৯টি অবৈধ বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সরকারি খালে নির্মিত সব অবৈধ বাঁধ ও স্লুইসগেটে বসানো জাল অপসারণ করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, মগনামা ইউনিয়নের সোনালী বাজার-পশ্চিম মটকাভাঙা খাল, রুপাই খালসহ বিভিন্ন সরকারি খালে দীর্ঘদিন ধরে অন্তত ৫৮টি কৃত্রিম বাঁধ নির্মাণ করা হয়। অনেক স্লুইসগেটে অবৈধভাবে বসানো হয়েছে জাল। এতে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়ে মটকাভাঙা, বাইন্যাঘোনা, পশ্চিম মটকাভাঙা, দরদরিঘেনা, ধারিয়াখালী, আবদুল্লাহপাড়া, মগঘোনা, মুহুরীপাড়া, কোদাইলাদিয়া ও রঙিনখালের পূর্বকূলসহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা জলাবদ্ধতার কবলে পড়েন।
মগনামার মুহুরী ঘোনার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় তিন হাজার পরিবারকে বছরের পর বছর পানিবন্দি জীবন কাটাতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক বন্যায় ২০টি ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। বসতবাড়ি ও পুকুর তলিয়ে গিয়ে বেড়েছে মানুষের দুর্ভোগ।
উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, মঙ্গলবারের অভিযানে নুরুল আলম, আবু তৈয়ব, আবুল কালাম, গিয়াস উদ্দিন, হেলাল ও জহিরুল ইসলামসহ কয়েকজনের নির্মিত মোট ৯টি বাঁধ অপসারণ করা হয়।
এর আগে গত ১৮ জুলাই বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সরকারি খালে নির্মিত সব অবৈধ বাঁধ অপসারণে উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। এর পরই অভিযান শুরু হয়।
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. ইউনুস চৌধুরী বলেন, সরকারি খালে পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা সব অবৈধ বাঁধ ও স্লুইসগেটে বসানো জাল পর্যায়ক্রমে অপসারণ করা হবে। পানি চলাচল স্বাভাবিক হলে জলাবদ্ধতা কমবে। এতে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনও বাড়বে।
অভিযানের তদারকি করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক, ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বদিউল আলম, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল আলম, গ্রাম পুলিশ, গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।