সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি উগান্ডার শিক্ষামন্ত্রীর একটি তথাকথিত লিংকডইন প্রোফাইল আলোচনায় এসেছে। নিজেকে একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তির প্রোফাইলে লেখা রয়েছে, "যেকোনো পরিস্থিতিতে নকলবিরোধী। উড়তে ভালোবাসা একজন স্বপ্নিল কারিগর। অতীতকে সঙ্গে নিয়ে বর্তমানকে ফিউশন করে পৃথিবী বদলে দিতে চাওয়া একজন।"
প্রোফাইলটির অভিজ্ঞতা অংশে ২০০৬ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তার মূল দায়িত্বগুলোর তালিকায় স্থান পেয়েছে "ফেসবুকে অ্যাকটিভ থাকা", "পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, সেগুলো বিবেচনার বাইরে রেখে নিজের দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকা" এবং "শিক্ষার্থীদের ওপর নিয়মিত বিরতিতে ‘নতুন নতুন আইডিয়া’র প্রয়োগ নিশ্চিত করা।"
এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের "‘ইস্যু ক্রাইসিস’ ম্যানেজমেন্টে ভূমিকা রাখা" এবং "ইস্যু হারিয়ে গেলেই ইস্যু দিয়ে সবাইকে চাঙা রাখা"-কেও তার দায়িত্ব হিসেবে দেখানো হয়েছে। এমনকি "যেকোনো প্রশ্নের উত্তরে সরাসরি উত্তর না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করা"-র বিষয়টিও সেখানে অন্তর্ভুক্ত।
দক্ষতার তালিকায় তিনি নিজেকে হেলিকপ্টারে চড়া, উচ্চলম্ফ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় আধিপত্যের ক্ষেত্রে 'এক্সপার্ট' হিসেবে দাবি করেছেন। পাশাপাশি "নকল আইডেন্টিফিকেশন (বেস্ট)", "উঁকি মারা (বেস্ট)" এবং "বিতর্কিত মন্তব্য (এক্সপার্ট)" হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন। তবে সিলেবাস কাটছাঁটের বিষয়টি নিয়ে লেখা আছে, "এখনো শিখছি।"
শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে উগান্ডার এই শিক্ষামন্ত্রীর দাবি চমকপ্রদ। তিনি 'ইউনিভার্সিটি অব ভাইরাল হেডলাইনস' থেকে "১পিএইচডি (PhD) ইন ‘যা কইছি তা-ই’" এবং 'ইনস্টিটিউট অব কপিক্যাট অ্যান্ড অ্যানালাইসিস' থেকে "মাস্টার্স ইন কপি পেস্ট" অর্জন করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুরস্কারের তালিকায় রয়েছে শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ফোরামের "উচ্চলম্ফ, (গোল্ড) অ্যাওয়ার্ড", "গোল্ড মেডেল, ‘নকল দেখে ফেলেছি’ প্রদানকারী ক্যাটাগরিতে" এবং "সোশ্যাল মিডিয়া ট্রল অব দ্য ইয়ার (ধারাবাহিক বিজয়ী)"। এছাড়া তাকে বিশেষ সম্মাননা হিসেবে "‘বন্যার পানিতে ভিজে হও সারা’ স্মারকবাহী" প্রদান করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যান্য দক্ষতার মধ্যে প্রেস কনফারেন্সে নাটকীয় পজ নেওয়া, ফুটেজ খাওয়া এবং ফেসবুকে সমালোচনাকারীদের নিয়ে সমালোচনা করার কথা বলা হয়েছে। জাতীয় বিপর্যয় এড়িয়ে সবাইকে নকল প্রতিরোধে হলে পাঠানোর বিষয়টিও সেখানে উল্লেখ আছে।
প্রোফাইলটির বিশেষ অর্জনে লেখা হয়েছে, "বাপ-চাচাদের ‘সেই দশ মাইল গলাপানিতে হেঁটে স্কুলে যাইতাম’ থিওরিকে পেছনে ফেলে বর্তমান প্রজন্মকে কোমরপানিতে (ম্যানহোলের ফ্লেভারের) পরীক্ষার হলে নেওয়ার অবিস্মরণীয় রেকর্ড!"