চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় বা 'ইস্যুর বাজার' ছিল বেশ জমজমাট। সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বিশ্বকাপ ফুটবল। একদিকে আর্জেন্টিনা দলের অবিশ্বাস্য কামব্যাক, অন্যদিকে নিজেদের বিদায়ের পর ব্রাজিল সমর্থকদের সমর্থিত দলগুলোর একের পর এক বাদ পড়া—সব মিলিয়ে ফেসবুকে এক অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে কোনোভাবেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বজায় রাখা যাচ্ছে না।
এদিকে দেশের বন্যা পরিস্থিতি এবং ঢাকার রাস্তায় পানি জমে থাকা সত্ত্বেও এক মাননীয় মন্ত্রী পরিস্থিতি ভালো বলে দাবি করেন এবং পরীক্ষার কথা জানান। তবে শিক্ষার্থীরা যখন হাবুডুবু খেতে খেতে পরীক্ষা দিতে যায়, তখন দেখা যায় প্রশ্নেই প্রচুর ভুল। এতে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের প্রতি মন্ত্রী মহোদয় মন্তব্য করেন, "ফার্মের মুরগি"। এই মন্তব্যে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে শেষ পর্যন্ত কামব্যাক দেওয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, "সরি!"
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয় এক 'কার্টুন বিদ্রোহ'। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি কার্টুন নিজের মতাদর্শের বাইরে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হন এক বিদ্রোহী। ওই বিদ্রোহীর লেখা যুক্তি এবং ধমক শুনে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, কার্টুনিস্টরা যদি এই ধরনের ধমকে ভয় পেয়ে আঁকা ছেড়ে দেন, তবে তা হবে মহাবিপদ। তাদের ক্যারিয়ার এবং জীবিকার পাশাপাশি রস+আলোর মতো প্রকাশনার রসিকতার উৎস নিয়েও তৈরি হয়েছে গভীর দুশ্চিন্তা।
রস+আলোর এই সংখ্যাটি বাজারে আসার দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এই দিনেই বিশ্বকাপের ফাইনাল। ফাইনালে কে জিতবে তার চেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, কাল থেকে মানুষ নতুন কী নিয়ে ঝগড়া করবে। তবে বাঙালির ঝগড়ার ইস্যুর অভাব হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
পাশাপাশি, এই বিশেষ দিনটি হুমায়ূন আহমেদকে হারানোর দিন। রস+আলোর পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।