চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ‘বাবা অসুস্থ’ বলার কথা জানিয়ে সাত বছরের এক স্কুলছাত্রীকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার পশ্চিম সরফভাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিবেচনা করে অপহৃত শিশুটি উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযানে নেমেছে পুলিশ।

অপহৃত শিশুর নাম ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন (৭)। সে সরফভাটা এলাকার প্রবাসী মো. দেলোয়ারের মেয়ে এবং স্থানীয় ইমাম আযম (র.) স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ১০টার দিকে স্কুল ছুটি শেষে ওয়াসিফা তার দুই সহপাঠীর সঙ্গে হেঁটে বাড়ি ফিরছিল। দুতলা মসজিদসংলগ্ন সড়কে আগে থেকেই একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ তিন ব্যক্তি ওত পেতে ছিল। ওয়াসিফার ‘বাবা অসুস্থ’ এবং তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে—এমন কৌশলে শিশুটিকে অটোরিকশায় তুলে নেয় দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার দুই সহপাঠীকে বাড়িতে চলে যেতে বলা হয়। ঘটনার সময় তিন শিশুই স্কুলের পোশাকে ছিল।

পরে সহপাঠীরা বাড়ি ফিরে বিষয়টি জানালে ঘটনাটি জানাজানি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সন্দেহভাজন সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি দুতলা মসজিদসংলগ্ন সড়কে প্রায় ৩০ মিনিট দাঁড়িয়ে ছিল। ঘটনাস্থলের একটি সিসিটিভি ফুটেজে তিন ব্যক্তিকে শিশুটিকে তুলে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ শুরু করেছে।

ওয়াসিফার বাবা-মা জানান, কারও সঙ্গে তাদের কোনো শত্রুতা নেই। কেন বা কী উদ্দেশ্যে তাদের সাত বছরের মেয়েকে অপহরণ করা হলো, তা তারা বুঝতে পারছেন না।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মো. দেলোয়ার বাদী হয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হিলাল উদ্দিন আহমদ জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশও (ডিবি) ঘটনার তদন্ত ও উদ্ধার অভিযানে যুক্ত রয়েছে।

ওসি আরও জানান, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে শিক্ষার্থীদের তুলে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।