দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলায় রূপালী ব্যাংকের সাবেক এক কর্মকর্তাকে ২৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া দণ্ডিত ব্যক্তির নামে থাকা ১ কোটি ২৪ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে নোয়াখালী বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শওকত আলী এই রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি আবদুল মজিদ রূপালী ব্যাংকের লক্ষ্মীপুরের রামগতি বাজার শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার সদর থানার কাফিলাতলি গ্রামের বাসিন্দা।
আদালতে নিয়োজিত দুদকের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিন রায়ের বিষয়টি মুক্তকণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, "রায় ঘোষণার সময় আবদুল মজিদ আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।"
রায়ে মো. আবদুল ওয়ারেশ ও আবুল কালাম নামের আরও দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ১৪ নভেম্বর থেকে ২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত রূপালী ব্যাংকের রামগতি বাজার শাখায় ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন আবদুল মজিদ। দায়িত্ব পালনকালে তিনি গ্রাহকদের সঞ্চয় এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশনের ১৬ লাখ ৩০ হাজার ২৩১ টাকাসহ মোট ১ কোটি ২৪ লাখ ১৫ হাজার ৫৪৩ টাকা আত্মসাৎ করেন। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে সামনে আসার পর ২০১৩ সালের ৮ জুন লক্ষ্মীপুরের রামগতি থানায় মামলা করে দুদক।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডবিধির দুটি পৃথক ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের অধীনে আবদুল মজিদকে ২৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নির্ধারিত জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ১৮ মাস কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।